এম কে হাসান
জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে বসবাসরত তিন শতাধিক স্থানীয় পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ১ নম্বর ইস্ট/ওয়েস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রবেশ মুখে সহস্রাধিক বাসিন্দা অবস্থান নিয়ে এই প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভ চলাকালে ক্যাম্পের ভেতর এনজিও কর্মীবাহী গাড়ি চলাচলে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরোধের পর স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ভুক্তভোগী লম্বাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, তারা উখিয়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বৈধ গ্রাহক এবং তাদের কোনো বিল বকেয়া নেই। গতকাল সোমবার সকালে ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম (উপসচিব পদমর্যাদা) কোনো নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
একই গ্রামের গৃহবধূ আয়েশা আক্তার বলেন, এক রাত অন্ধকারে কাটাতে হয়েছে আমাদের। বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজ ও রান্না-বান্না অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এভাবে কতদিন চলবে তা নিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তায় আছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, যদি কেউ অবৈধ কোনো কাজে জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু এভাবে সামষ্টিক ভাবে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎহীন করে দুর্ভোগে ফেলা অমানবিক।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম দাবি করেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজেরাই এই সংযোগ গুলো বিচ্ছিন্ন করেছে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম কায়জার নুরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, সিআইসি মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামের এই ক্ষমতার অপব্যবহার মেনে নেওয়া যায় না। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে প্রত্যাহার করতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী অবগত আছেন এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহালের প্রক্রিয়া চলছে।
নেতৃবৃন্দের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেন।


