সিরাজুল ইসলাম :জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার,
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, পর্যটনকেন্দ্রিক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে এ পথে। অথচ নিরাপত্তার ঘাটতি, বেপরোয়া গতি আর নিয়ম ভাঙার সংস্কৃতি এই মহাসড়ককে পরিণত করেছে “মৃত্যুর ফাঁদে”।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দিনের ব্যবধানে এই সড়কে ঘটেছে দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক সাবেক ইউপি সদস্যের ভাই, অন্য ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত চারজন
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চকরিয়ার খুটাখালী ফুলছড়ি গেট এলাকায় দ্রুতগামী একটি মাইক্রোবাস মোটরসাইকেল আরোহী নুরুল আজিমকে (৪০) পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।
তিনি রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য টুলু মেম্বারের ছোট ভাই। স্থানীয়রা জানান, ধাক্কার পর আজিম ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে উল্টে যায়। গাড়িটি জব্দ হলেও চালক পালিয়ে যায়। মালুমঘাট হাইওয়ে থানার পুলিশ জানায়, চালককে শনাক্তে চেষ্টা চলছে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর, বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ঈদগাঁও মেহেরঘোনা এলাকায় ঘটে আরও একটি দুর্ঘটনা। একটি হানিফ পরিবহনের বাস পেছন থেকে পার্কিং অবস্থায় থাকা প্রাইভেটকারে ধাক্কা দিলে সেটি সামনের নোহার সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ত্রিমুখী এই সংঘর্ষে অন্তত চারজন গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট শব্দ শুনে লোকজন দৌড়ে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
ঘটনার সময় বাসের সামনের অংশ ও কার-নোহার পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তবে চালক পালিয়ে যায়। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন জব্দ করেছে।
মহাসড়কের নিয়মিত যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,
অধিকাংশ চালক নির্ধারিত গতিসীমা মানেন না।
যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং হয়, যা নতুন দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে।
ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল আলম বলেন, “প্রতিদিন এই মহাসড়কে দুর্ঘটনার খবর শুনি। আমাদের মনে হয় এখানে নিয়ম-কানুন বলে কিছু নেই। যাত্রীদের জীবন যেন ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
সড়ক নিরাপত্তা গবেষকরা বলছেন, পর্যটন অঞ্চল হওয়ায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে উল্টো দৃশ্য। দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্ত চালক, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ওভারটেকের প্রবণতা—সব মিলিয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমছে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, প্রতিটি দুর্ঘটনা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে স্থানীয়রা বলছেন, চালক ধরা পড়লেও কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে আসে, আবারও রাস্তায় নামে। এভাবে মৃত্যুর মিছিল থামছে না।


