জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এ মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া দুই স্কুলছাত্রীকে ছয় দিন পর কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেল থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে তারা স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়ে পালিয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকার ‘গ্রিন প্যারাডাইজ’ হোটেলের ১০১ নম্বর কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় তাদের। পরবর্তীতে বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে তথ্যটি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোছাইন।
যেভাবে নিখোঁজ হয় দুই কিশোরী:- পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড় ৮টার দিকে উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের মাহিমা ইসলাম মাহি ও যুগিরকান্দি গ্রামের তানিসা আক্তার কাশি নগর আল আমিন মহিলা মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। যথা সময়ে তারা বাড়ি ফিরে না আসায় স্বজনরা মাদ্রাসায় যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে, তারা সেদিন মাদ্রাসায়ই উপস্থিত হয়নি। পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান মেলােনি। নিরুপায় হয়ে নিখোঁজ দুই কিশোরীর পরিবার চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করে।
পুলিশের তদন্ত ও অভিযান:- বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান (পিপিএম)-এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় নিখোঁজদের উদ্ধারে অনুসন্ধানে নামে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সমন্বিত ভাবে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে দুই কিশোরীর সর্বশেষ অবস্থান কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায় শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে কক্সবাজার জেলা ডিবি পুলিশের সহায়তায় মঙ্গলবার রাতে ‘গ্রিন প্যারাডাইজ’ হোটেলে এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ডিবি। অভিযানের সময় হোটেলের ১০১ নম্বর কক্ষ থেকে মাহিমা ও তানিসাকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
পারিবারিক অভিমান থেকে আত্মগোপন:- উদ্ধারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলে দুই কিশোরী জানায়, তাদের পরিবারের লোকজনের ওপর ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মান-অভিমান ছিল। সেই অভিমানের জের ধরেই তারা কারও সহায়তা ছাড়াই স্বেচ্ছায় বাড়ি ত্যাগ করে এবং বেড়ানোর উদ্দেশ্যে কক্সবাজার চলে আসে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোছাইন জানান, সংবাদ পেয়ে আমাদের টিম দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় দুই কিশোরীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও আইনি প্রক্রিয়ার কাজ চলমান। আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে কিশোরী দু’জনকে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের অভিভাবক ও পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে।


