এস.এম.রিয়াদুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছে জুলাই যোদ্ধারা। তারা নিয়োগ পরীক্ষার আগের দিন ৮ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে। আজ সোমবার মৌখিক পরীক্ষায় তাদেরনিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে জানান জুলাই যোদ্ধারা। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মো. আনোয়ারুল কবীর নিয়োগ বানিজ্যের সাথে জড়িত। টাকার বিনিময়ে আওয়ামীলীগের দোষরদের নিয়োগ দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে তিনি। এনিয়ে কুষ্টিয়ার সচেতন মহলে চলছে নানা সমালোচনা।
নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়া, তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে চাকরিপ্রার্থী ও জুলাই যোদ্ধারা। এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ সুপার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া পৌরসভার হাউজিং এলাকায় অবস্থিত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানববন্ধন করেছে তারা।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুত্রে জানা যায়, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ইন্সট্রুমেন্ট কেয়ারটেকার ও অফিস সহায়ক পদে ২৪ জনের নিয়োগের জন্য গত ২৪ মে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর গত ২২ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন পদের বিপরীতে প্রায় ৫ হাজার প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। এরমধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৩ হাজার প্রার্থী। লিখিত পরীক্ষায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ১০ জন, ইন্সট্রুমেন্ট কেয়ারটেকার ৬ জন এবংঅফিস সহায়ক পদে ১০৭জন উত্তির্ণ হয়। এদের মৌখিক পরীক্ষা আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো লিখিত অভিযোগে চাকরিপ্রার্থীরা উল্লেখ করেছেন, গত ২২ আগস্ট কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমান মিলেছে। মেডিকেল কলেজে আওয়ামীলীগ আমলে অনিয়মিত আউটসোর্সিং এ কর্মরতদের এই সরকারি চাকুরীতে নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা করছেন পরিচালক ও হিসাবরক্ষক। পরীক্ষার দিন সকালে পরিচালকের অফিস রুমে ও তার পাশে একটি কক্ষে আউটসোর্সিং এ অস্থায়ীভাবে যারা কর্মরত তাদের মধ্যে থেকে ৪ জনের সাথে পরিচালকের আলোচনা হয় এবং এই ৪ জনের সকলেই নিয়োগ পরীক্ষার প্রার্থী। পরীক্ষার পূর্বের দিন কোন প্রার্থীদের সাথে পরিচালক কোনভাবেই এভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার আলোচনা করতে পারেন না। চারজনের মধ্যে তানভীর আহম্মেদ অফিস সহকারি
কাম কম্পিউটার অপারেটরের প্রার্থী ও হাসপাতালে অস্থায়ীভাবে ওয়ার্ড মাস্টার পদে কর্মরত আছে। সে হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেনের ভাগ্নে। আবির ইসলাম অফিস সহায়ক প্রার্থী এবং বর্তমানে অনিয়মিত শ্রমিক পদে কর্মরত, সাঈদ হাসান অফিস সহায়ক প্রার্থী এবং বর্তমানে অনিয়মিত শ্রমিক, অনুপ কুমার অফিস সহায়ক প্রার্থী ও ওয়ার্ড মাস্টার হিসেবে কর্মরত।
এসময় আরও কয়েকজন চাকরী প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরিচালক ও হিসাবরক্ষক তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নিকট থেকে অর্থ নিয়ে চাকুরী প্রদানের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা তানভীর, আবির, সাঈদ, অনুপ, সুজন, মেঘলা, রোকনুজ্জামান ও জুথী খাতুনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়ার জন্য হাসপাতালের পরিচালক এবং হিসাবরক্ষকের
নিয়োগ বনিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন। পরীক্ষার দিন জিলা স্কুলের ১১২ নম্বর রুমে পরিচালক ও হিসাবরক্ষক তানভীর আহম্মেদকে কয়েকবার তার রুমে গিয়ে উত্তরপত্রে লিখতেসহযোগিতা করেন। জিলা স্কুলে যার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।
আউটসোর্সিং এ চাকুরীরত আরো কয়েকজন প্রার্থীকে পরীক্ষার উত্তর পত্র দেখানো হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল, নতুনভাবে পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরিচালক ও হিসাবরক্ষকসহ অন্যান্য দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুররাধ জানান কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অফিস সহকারী ওকম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি প্রার্থী আব্দুল ওহাব বলেন, শুক্রবারে নিয়োগ পরিক্ষায় অনিয়ম দুর্নীতি করা হয়েছে। পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ও হিসাবরক্ষক আনোয়ার টাকার বিনিময়ে নিয়োগ বানিজ্য করেছে। আওয়ামী লীগের আমলে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ পাওয়া ওয়ার্ড মাস্টার তানভীরসহ বেশ কয়েকজনকে নিয়োগ দেয়ার জন্য পরিচালক উঠে পড়েলেগেছে। তানভীরসহ আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত ৮ জন হিসাব রক্ষকের আত্মীয়-স্বজন। পরীক্ষার আগেরদিন দফায় দফায় তাদের সাথে দেখা, সাক্ষাৎ ও মিটিং করেছে পরিচালক আনোয়ারুল। তারা টাকার বিনিময়ে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করছে।
মানববন্ধনে আবু হানিফ বলেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজহাসপাতালে অস্থায়ীভাবে মাস্টার রোলে কর্মরত ৮ জন কর্মচারীকেনিয়োগ দেয়ার জন্য বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্যকরেছে পরিচালক আনোয়ারুল। নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন তাদের মাধ্যমেই ছাপানো হয়েছে, পরীক্ষার খাতাও তারা দেখছে। তাদের কাছে থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে নিয়োগ দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে পরিচালক ও হিসাবরক্ষক।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আনোয়ারুল একজন আওয়ামী লীগের দালাল। আর যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে তারাও আওয়ামী লীগের দোসর। আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে তারা অস্থায়ী নিয়োগ পেয়েছে। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য করছে সে। পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষার দাবি জানাচ্ছি। আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলন করবো। মানববন্ধনে জুলাই যোদ্ধা সুজন ফরাজি বলেন, অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ বাণিজ্য করা হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি এবং পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষার দাবি জানাচ্ছি।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ মো. আনোয়ারুল কবীর বলেন, আমরা নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পূর্ণ করেছি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি করা হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে উঠা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ মনগড়া, মিথ্যাওভিত্তিহীন। কোনো চাকরি প্রার্থীর কাছে থেকে টাকা পয়সা নেয়া হয়নি।


