এস.এম.রিয়াদুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া শহর থেকে গ্রামাঞ্চল সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ নানা মাদক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পরও থামানো যাচ্ছে না মাদক ব্যবসা। প্রকাশ্যে বিক্রি বাড়ায় উদ্বেগজনক হারে আসক্ত হচ্ছে তরুণ সমাজ, এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় মাদক সিন্ডিকেটের দাপট বেড়েছে। সন্ধ্যা থেকে রাতভর সীমান্তপথে অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক জায়গায় মোবাইল কোর্টের অভিযান চললেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
চিকিৎসকরা বলছেন, ভেজাল ও বিষাক্ত মাদক সেবনে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। গবেষণা অনুযায়ী, মাদকাসক্তদের মধ্যে ৭০ ভাগই তরুণ ও শিক্ষিত সমাজের সন্তান। নারী ও শিশুরাও যুক্ত হচ্ছে এই সর্বনাশায়।
বিজিবি জানায়, সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সীমান্ত পথে মাদক পাচার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চলছে। র্যাবের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং বড় সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে কোনো মাদক উৎপাদিত হয় না,সীমান্তপথে বিদেশ থেকে আসে। সীমান্তে কড়া নজরদারি ও আন্তঃসংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া মাদক বন্ধ সম্ভব নয়। অধিদপ্তরের মতে, সীমিত জনবল দিয়েও অভিযান অব্যাহত রয়েছে, তবে প্রয়োজন জনবল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানো।
সুশীল সমাজের মতে, মাদক প্রতিরোধে প্রশাসন, আদালত, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এদিকে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং অপরাধী যেই হোক ছাড় দেওয়া হবে না।


