মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঝালিঙ্গী গ্রামে সম্পত্তির লোভে একমাত্র ছেলে ও পুত্রবধূর নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বৃদ্ধ বাবা–মা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অমানবিক ঘটনার সর্বশেষ পর্বে গত ৭ জানুয়ারি নিজ বাড়িতেই নির্যাতিত হন ৭৫ বছর বয়সী মাহাবুব ইসলাম দোলন ও তার স্ত্রী ৭০ বছর বয়সী হাসনা বেগম।
ভুক্তভোগী দম্পতির অভিযোগ, একমাত্র সন্তান হাসানুর রহমান ও তার স্ত্রী, সাঁতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সোমা আক্তার সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর থেকেই বাবা–মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। নিয়মিত ভরণপোষণ বন্ধ রাখা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং একাধিকবার ঘর থেকে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ ৭ জানুয়ারি সকালে অসুস্থ বৃদ্ধ দম্পতি চিকিৎসার প্রয়োজনে পলাশবাড়ী পৌরশহরে ওষুধ কিনতে গেলে সেই সুযোগে পুত্রবধূ তাদের শয়নকক্ষে প্রবেশ করে লেপ, তোষক, কাঁথা, বালিশ ও কম্বলসহ ব্যবহৃত আসবাবপত্র ঘর থেকে বের করে পানিতে ভিজিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার খবর পেয়ে পলাশবাড়ীতে কর্মরত সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ ও পলাশবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বৃদ্ধ দম্পতিকে পুনরায় তাদের শয়নকক্ষে থাকার ব্যবস্থা করেন এবং সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও হাসনা বেগম পিতা–মাতার ভরণপোষণ আইনে গাইবান্ধা আদালতে মামলা করেছিলেন। সে সময় মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। পরে উল্টো বাবা–মায়ের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতিসহ একাধিক মামলা দায়ের করেন অভিযুক্ত ছেলে। প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে এর আগেও দু’বার মুচলেকার মাধ্যমে বৃদ্ধ দম্পতিকে ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বাবা–মায়ের করা মামলা নিষ্পত্তির জন্য জোরপূর্বক এভিডেভিটে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেন হাসানুর রহমান। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সারোয়ারে আলম খান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বৃদ্ধ বাবা–মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


