মোঃ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম থেকে//
বাজারে এক প্রকার কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের বাজার অস্তির করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতা সাধারণ। প্রতিটা পণ্যের উপরে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করার অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের। তাদের দাবি এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় এনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ে অনেক ব্যবসায়ীর সাথে বাক-বিতণ্ডা লেগেই থাকে। এটি হল চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারের চিত্র।
চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনে দেখা যায় আশি থেকে ১০০ টাকার নিচে কোন প্রকারের সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। মাছের বাজারে আগুন লেগেই আছে। গরিবের ইলিশ খ্যাত ফাঙ্গাস মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজিতে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। মাজারি আকারের তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২০০ টাকা। রুই জাতীয় মাছ কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে না। এ হল দেশীয় মাছের দাম। সামুদ্রিক মাছ মধ্যবিত্ত পরিবারের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে অতিরিক্ত দামের কারণে। মাছের রকম বুঝে দাম হাকাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ইলিশ মাছ কেনা বড় দায় হয়ে গিয়েছে নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্তদের। প্রতি কেজি ইলিশ দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।
বিশাল একটা স্বপ্ন নিয়ে একটা ইলিশ মাছ কিনতে এসেছিলেন গার্মেন্টস এর চাকরিজীবী আইসা খাতুন। বাজারে এসে দাম শুনে হতাশ হয়ে একটি ব্রয়লার মুরগী নিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন এদেশে গরিব মানুষের ইলিশ মাছ খাওয়ার স্বপ্ন কখনো দেখা উচিত না। একটা ইলিশ কিনতে গেলে পুরো মাসের বাজারের টাকা চলে যায়। যে দেশে ইলিশ উৎপাদন হয় সে দেশে ইলিশের দাম এত বেশি এটা মেনে নেওয়া যেন মুশকিল।
মোটামুটি কম দামে এখন বয়লার মুরগির দিকে ঝুকছে সাধারণ মানুষ তাদের অভিমত যেখানে এক কেজি পাঙ্গাস মাছ কিনতে ২০০ টাকা খরচ হয় সেখানে বয়লার মুরগী অনেক ভালো। কিছু অভিভাবকের অভিমত সন্তানরা খাবারের সময় একটু সুস্বাদু খাবার খেতে চাই তাই বাবা মায়েরা, চেষ্টা করে অন্যদিকে খরচ কমিয়ে খাবারের সময় একটু মাছ মুরগির যোগান দিতে। কিন্তু বর্তমানে বাজারের যে উর্ধ্বমুখী অবস্থা এতে আয়ের সাথে ব্যয়ের কোন কুলকিনারা হচ্ছে না।
মাসিক বেতনের সাথে খরচের সমন্বয় করতে গিয়ে চাকরিজীবীরা নানা রকম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়তেছে কেউ দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে আবার সেই দেনা পরিশোধ করতে গিয়ে নানারকম হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সব সময় সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকে দ্রব্যমূল্য যাতে হাতের নাগালের ভেতরে থাকে। কিন্তু কোন সরকার সিন্ডিকেট ভেঙে সাধারণ মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের সময়ে এসেও এক প্রকার সিন্ডিকেট প্রথার মাধ্যমে প্রায় প্রতিটি পণ্যের উপর অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি করে যাচ্ছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রামের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চাক্তাই খাতুনগঞ্জ এবং আসাদগঞ্জ বিভিন্ন আড়ত পরিদর্শনে দেখা যায় আড়ত দাররা গোডাউনে পর্যাপ্ত পরিমাণে মালামাল না রেখে অন্য জায়গায় গোডাউনে সরিয়ে রেখেছে। অবৈধ মজুমদাররা এলাকার গোডাউনে মালামাল রাখার নিয়ম থাকলেও তারা অন্যত্র সরিয়ে রেখে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছে বলে খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন।
মাঝে মাঝে জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং টিম বাজার গুলোতে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও সাময়িক শাস্তি প্রদান করলেও এটার ধারাবাহিকতা না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা অভিযান পরবর্তী আবারও মূল্যবৃদ্ধি করে ফেলে। জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং অভিযান নিয়মিত করলে ব্যবসায়ীরা একটু ভয়ে থাকবে বলেও সাধারণ ক্রেতারা জানান।
এখন পথে পথে মালামাল আনানের সময় সরাসরি তেমন কোন চাঁদাবাজি না থাকলেও পরিবহন ভাড়া অতিরিক্ত দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ক্রেতারা।
সব মিলিয়ে একপ্রকার নাবিশ্বাস উঠেছে জনসাধারণের মাঝে। তারা অসন্তোষ প্রকাশ করে সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বর্তমান যে অন্তবর্তী সরকার রয়েছে তারা এসব বিষয়ে হোটেল কোন পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে এবং এখনো বিভিন্ন জায়গায় সিন্ডিকেট থাকার কারণে অবৈধ ব্যবসায়ীরা যেমন ইচ্ছা তেমন মূল্যবৃদ্ধি করে যাচ্ছে পণ্যের উপরে। ভোক্তাদের দাবি এসব অবৈধ ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের ব্যবসায়িক লাইসেন্স বাতিল করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় এনে দ্রব্যমূল্যকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসা হোক।


