মোহাম্মদ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে এক হলো জাতীয় রাজনীতি দুই হল তৃণমূলের রাজনীতি। জাতীয় রাজনীতির সাথে সংযুক্ত নেতারা প্রতিনিয়ত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে অপরদিকে তৃণমূলের রাজনীতি নোংরামিতে ভরে গেছে স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজিতে। বড় দলগুলোর সাথে জড়িত প্রায় সবাই স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত রয়েছেন এতে মাঝে মাঝে বিভিন্ন দপ্তর এমনকি ফুটপাত থেকে শুরু করে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যদিও এটা তারা মানতে নারাজ। কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এর মুখে মুখে এখন চাঁদাবাজদের নাম শোনা যায়।
যদিও কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা সব সময় থাকে প্রশাসনের প্রতি চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে আবার দেখা যায় কাউকে প্রশাসন গ্রেফতার করে নিয়ে গেলে তদবির করে তাকে থানা থেকে নিয়ে যাওয়ার পায়তারা চালায়। প্রশাসন পড়ে গেছে দ্বিমুখী অবস্থায় এখনো সরকারি নির্দেশনা মানা আরেকদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর হুমকি মেনে কাজ করা। ইতিমধ্যে প্রশাসনও রাজনৈতিক দল গুলোর তাবেদারি করা শুরু করে দিয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অভিযোগ রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা টেলিফোনে বিভিন্ন প্রকারের হুমকি দিয়ে কাজ আদায় করে নিচ্ছে যা সুষ্ঠুভাবে প্রশাসন চালানোকে হুমকি স্বরূপ মনে করতেছেন তারা। রাজনৈতিক প্রেসার এর জায়গা থেকে উন্নতি করতে গেলে স্বতন্ত্র কাজ করার কোন বিকল্প নাই। কিন্তু এদেশে স্বতন্ত্র কাজ করা খুব মুশকিল হয়ে পড়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তদবির বাজদের আনাগোনা বেড়ে গেছে প্রশাসন গুলোতে। তাই প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু প্রভাবশালী নেতা তাদের ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে স্বচ্ছতা হারায়। এখনকার রাজনীতি হলো শুধু ক্ষমতার রাজনীতি যে যতটুকু ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারবে সমাজে তার অবস্থান ততটুকু শক্ত যার মাঝখানে পড়ে গেছে সাধারণ জনতা। তবে সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমে যদি আগামীতে সরকার গঠন করা না যায় তবে আগামীর জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সাধারণ জনতা আগের মতই আছে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে তেমন কেউ চিন্তা ভাবনা করে কাজ করতেছে বলে মনে হয় না। জনগণকে ব্যবহার করে ক্ষমতার চেয়ার দখল করার জন্য সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের সাধারণ মানুষ যতটুকু আনন্দিত হয়েছিল তার চাইতে হতাশাগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দেশের সমস্যা কতটুকু উত্তরণ ঘটবে তার কোন উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। তাদের একটাই অভিমত একটু শান্তিতে চলাফেরা করা ঘুমানো নিত্য পণ্যের বাজার নিম্নমুখী রাখা পরিস্থিতি অনুযায়ী সকল সমস্যার সমাধান হোক।
প্রতিদিন যেভাবে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে এটা কোন মতেই কাম্য নয়। নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থায় তেমন কোন অগ্রগতি দেখছে না সাধারণ জনতা প্রতিদিন কোন না কোন সড়কে তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। কারো না কারো গুলিতে নিহত হচ্ছে মানুষ। এগুলোর দিকে খেয়াল করা সরকারের প্রধান কাজ পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কাজে আরো মনোযোগী হতে হবে।


