মোঃ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম থেকে//
দেশের রাজনৈতিক প্রবাহ এখন কয়েকটি ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। প্রশাসনিক আমলারা বুঝে শুনে সামনের দিকে আগানোর চেষ্টায় আছে। কোন রাজনৈতিক দলের পাল্লা ভারী সেটা দেখার চেষ্টা চালাচ্ছে আমলারা। প্রশাসনিক ছোট বড় কর্মকর্তারাও আগামী নির্বাচনে কে বিজয়ী হবে সেটা চিন্তা করেই রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সমঝোতা করে চলার চেষ্টা করতেছে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন তদবির প্রশাসনিক কর্তারা খুব কৌশলে সমাধান করার চেষ্টা করতেছে। ছোট দলগুলোকে প্রশাসনিক সহযোগিতা কম করলেও বড় দল গুলোর অনুরোধ রক্ষায় যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রশাসনিক বড় কর্তারা।
দলীয় অনুষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনের অবস্থান দেখে বোঝা যায় মাঠের রাজনীতি এবং ভোটের রাজনীতিতে আগামীতে কারা বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে। মূলত এই সরকার গঠন করাকেই পুঁজি করে চলতে চায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মচারীরা। ইতিমধ্যেই বড় নেতাদের তোষামোদিতে ব্যস্ত রয়েছেন অনেকেই।
দেশের রাজনীতিতে ডান এবং বাম এই দুইটা পক্ষ নিয়ে সবাই জড়িত থাকে তার মধ্যে মিডিয়ার লোকজনও জড়িত। আওয়ামী পন্থী মিডিয়ার লোকজন এখন একেবারেই নিশ্চুপ তারা অফিস থেকে শুরু করে প্রায় সব জায়গায় তাদের কথাবার্তা বলা বন্ধ করে রেখেছেন অপরদিকে জাতীয়তাবাদী মিডিয়ার লোকজন কাজে কর্মে সক্রিয় রয়েছে প্রায় সময় তারা এখন বিভিন্ন জায়গায় তদবিরে ব্যস্ত রয়েছে। রাজনীতিতে সাংবাদিকতার হালকে অনেক আগে থেকেই যুক্ত করে রেখেছে বড় বড় সাংবাদিকরা। তারা সরাসরি দলের পক্ষ নিয়ে কাজ শুরু করে সাংবাদিকতাকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে অবৈধভাবে অর্থ ইনকামের রাস্তা বানিয়ে ছিল সেটার ধারাবাহিকতায় এখনো এই রাজনীতিকে পুঁজি করে সাংবাদিকরাও বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িয়ে গেছে। যার জন্য জনসাধারণ কাঙ্ক্ষিত সেবামূলক কিছু পাচ্ছে না সাংবাদিকদের কাছ থেকেও। জনসাধারণ আগেই রাজনীতির ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনের ব্যক্তিদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষ কিছুটা সৎ কর্মকাণ্ড আশা করলেও তা ঘুরে বালি। অসাধারণ মানুষকে এখন বলতে শোনা যায় এদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন মানে চেয়ারকে বদল করা হয়েছে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মন মানসিকতা আগের চাইতে আরো খারাপ হয়ে গেছে যার কারণে আগামীর ভবিষ্যৎ আরো বেশি অন্ধকারে চলে গেছে বলে অনেকের ধারণা।
দেশের সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক দল গুলোর কাছ থেকে যেটা আশা করেছিল তা হিতে বিপরীত হয়ে গেছে সবাই এখন চেয়ার দখল করা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে সাধারণ মানুষের সুবিধা ও অসুবিধার কথা ভুলে গিয়ে। যেই আশা করে বিপ্লব সাধন করা হয়েছে সেই বিপ্লব এখন দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বলে সাধারণ মানুষের মুখ থেকে শোনা যায়। আগামী রাষ্ট্র গঠনে যদি স্বৈরাচারী মনোভাব সৃষ্টি হয় তাহলে দেশের রাজনীতি এবং স্বচ্ছতা অতল গহবড়ে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেউ সংবিধানের দোহাই দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে সরে যেতে চাচ্ছে আবার কেউ সংবিধানের দোহাই দিয়ে চেয়ারে বসার কাজটাকে পাকা করার চেষ্টায় আছে এর মাঝে বিভ্রান্তিতে পড়ে গেছে সাধারণ ভোটার ও জনগণ। তবে সাধারণ মানুষ এখনো আশাবাদী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৎ এবং যোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিরা দেশ পরিচালনার কাজে নিয়োজিত হবেন। সাধারণ জনতার দুঃখ দুর্দশা লাগাবে আগামী দিন রাজনৈতিক সরকার কাজ করবে বলেও অনেকেই এখনো আশাবাদী।
দেশের আপামর জনসাধারণ এবং রাজনীতির সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের কাছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করে যাতে এই নির্বাচন আগামীতে বিশ্বে মডেল হয়ে দাঁড়ায়। সরকারও চাই সকলের সহযোগিতা নিয়ে আগামীর জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি শতভাগ সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য করে বিশ্বের দরবারে জানিয়ে দিতে চাই যে সকলের সৎ ইচ্ছা থাকলেই দেশ গঠনে অনেক কিছুই করা সম্ভব।


