মোঃ রাব্বি রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর হাজীগঞ্জ বাজারে সরকারি খাস জমি দখল ও অবৈধভাবে বিক্রির মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর ও স্মারকলিপি প্রদানের পর প্রশাসনিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গত ১২ জানুয়ারি ২০২৫ সরকারি খাস জমি দখল ও বিক্রির অভিযোগে মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ওই মানববন্ধনের পর নীলফামারী জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি খাস জমি দখল ও বিক্রির অভিযোগের তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তহসিলদারের পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবো।
১৩ জানুয়ারি ২০২৫ সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে গোড়গ্রাম ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় সংশ্লিষ্ট তহসিলদার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তবে তদন্ত চলাকালে তাঁর আচরণ নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্তের সময় তহসিলদার জয়ন্ত রায় ও মোঃ আফজাল হোসেনের বিষয়ে প্রতি নমনীয় আচরণ করেন। অপরদিকে একই সময়ে উপস্থিত অপর দুই ব্যবসায়ী যাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষ তাঁদের সঙ্গে তিনি অশোভন ও দুর্ব্যবহারমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসময় মোঃ আফজাল হোসেন সরকারি খাস জমি পাঁচজনের নিকট বিক্রি করেছেন, যা তিনি নিজ মুখেই স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজন ব্যবসায়ী সরকারি খাস জমি ক্রয়ের প্রমাণস্বরূপ সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টস তহসিলদারের কাছে প্রদান করেন। মো: আফজাল হোসেন সরকারি খাস জমিতে অবস্থিত একটি মসজিদ স্থানান্তর করে ওই জমি বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্ত কার্যক্রম যেন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন হয় এবং সরকারি খাস জমি দখল ও অবৈধ বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।


