সিরাজুল ইসলাম: জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার //
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার ভেন্ডিবাজার এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন দুই পর্যটক। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভেন্ডিবাজার এটিএন পার্কের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী একটি মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে দ্রুতগামী শ্যামলি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ভেন্ডিবাজার এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। এলাকাটি সরু এবং ব্যস্ততম হওয়ায় প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। অথচ ভারী যানবাহনগুলো এখানে নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করে। স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীরা জানান, প্রতিদিনই অল্প-বেশি দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।
চকরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করেছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই চালক ও তার সহযোগী পালিয়ে যায়। পুলিশের দাবি, চালককে আটকের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশ ও সড়ক নিরাপত্তা সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী—
গত ৫ বছরে (২০২০–২০২৪) চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া অংশে ছোট-বড় ৩৫০টির বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এসব দুর্ঘটনায় ২৫০ জনের বেশি নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন।
ভেন্ডিবাজার থেকে ডুলাহাজরা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার অংশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা ইতোমধ্যেই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নিয়মিত ট্রাফিক টহল জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।”
এদিকে হাইওয়ে পুলিশের দাবি, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় প্রতিটি পয়েন্টে নিয়মিত চেকপোস্ট বসানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারা দ্রুতই বাড়তি টহল এবং ‘স্পিড গান’ ব্যবহার বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক সংগঠনগুলো বলছে, মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে প্রযুক্তির ব্যবহার (সিসিটিভি, স্পিডগান) এবং পরিবহন শ্রমিকদের আবশ্যিক প্রশিক্ষণ না দিলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারগামী বাসগুলোতে গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক কক্সবাজারে যাতায়াত করেন এই মহাসড়ক দিয়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দুর্ঘটনার ভয় বাড়তে থাকলে পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির দাবি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে কক্সবাজারের অর্থনীতি ও ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয়রা বলছেন, মহাসড়কে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ও যাত্রী চলাচল করেন। অথচ নিয়মিত ট্রাফিক টহল নেই বললেই চলে। তারা দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত চেকপোস্ট বসানো এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


