নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের সুবলকাটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম অমান্য করে প্রধান শিক্ষক দিপক ঘোষ এবং সভাপতি মোঃ জাকিরের জোকসাজেশে সহকারী শিক্ষক ১০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে ছুটির পরে দীর্ঘদিন ধরে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দুপুর ২,৩০ মিনিটের দিকে স্কুলের ভিতরে ১০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে সহকারী শিক্ষক প্রাইভেট পড়াতে দেখা যায়।
সহকারী শিক্ষকের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়ে বলেন আমি এদের পড়াচ্ছি এরা ভালো লেখাপড়া করতে পারে না, তাই ছুটির পরে এক্সট্রা ক্লাস করাচ্ছি। এর পরে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা বলেন আমরা সবাই স্যারকে প্রতি মাসে ৪০০/ টাকা দিয়ে প্রাইভেট পড়ছি।
ছাত্র-ছাত্রীরা বলেন আমাদের স্কুল ছুটির পর প্রাইভেট পড়ানো হয়, আমাদের কোন এক্সটা ক্লাস করান না, ছাত্র-ছাত্রীরা আরো বলেন আমাদের কখনোই এক্সটা ক্লাস করানো হয় না। আমরা স্যারকে ৪০০/ টাকা দিয়ে প্রাইভেট পরি।
সুবলকাটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিপক ঘোষ থেকে শুরু করে প্রথেক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করেন এই বিষয়ে অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্বে তুলে ধরা হবে।
ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ জাকিরকে ফোন দিয়ে নিয়ে আসেন, সভাপতি এসে বলেন আমি নিজেই বলেছি প্রাইভেট পড়ানোর জন্য সভাপতি বলেন যাদেরকে প্রাইভেট পড়ানো হয়,এরা কেউ ভালো লেখাপড়া করতে পারে না,তার জন্য বলে দিয়েছি এদের ছুটির পরে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য। তিনি বলেন আমি এই স্কুলের সভাপতি আমার একটা দায়িত্ব-কর্তব্য আছে যে ভাবে স্কুলের শিক্ষার মান ভালো করা যায় সেই কারণেই এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সভাপতি মোঃ জাকির আরো বলেন আপনারা নিউজ করলে কি হবে স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে তা যাবে না, শিক্ষকদের বেতন ও বন্ধ হবে না।
প্রধান শিক্ষক দিপক ঘোষের সাথে কথা বলা হয়, তিনি বলেন ছেলে-মেয়েরা কম পারে বিদায় তাদের ছুটির পরে প্রাইভেট পড়ানোর সিদ্ধান্ত আমি নিয়েছি, তিনি বলেন আমার স্কুলের পড়াশোনা যে ভাবে ভালো করা যায়,তার জন্য প্রাইভেট পড়ানো হয়। তিনি আরো বলেন আমি এই স্কুলের জন্য অনেক কষ্ট করি তিনি বলেন আপনারা তো জানেন না, আমি প্রতি বছর কতো জনকে স্কুল ড্রেস বানিয়ে দেয়, সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন আপনি কি আপনার নিজের অর্থ দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল ড্রেস বানিয়ে দেন কিনা তখন তিনি বলেন না আমার নিজের টাকা দিয়ে বানিয়ে দিব কেন, স্কুলের টাকা দিয়ে বানিয়ে দেওয়া হয়।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মাহফুজুল হোসেন বলেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে কোন ধরনের কোচিং বা প্রাইভেট পড়ানো যাবে না, সরকারি ভাবে নিষেধ রয়েছে যদি কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে কোচিং বা প্রাইভেট পড়ানো হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ভাবে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সুবলকাটি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে দ্বিতীয় পর্বে তুলে ধরা হবে।


