নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার ৯২নং বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নবনির্মিত ওয়াশ ব্লকের (WASH Block) টিউবওয়েল থেকে পানি না ওঠায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবন ও ওয়াশ ব্লক বুঝিয়ে দেওয়ার (হ্যান্ডওভার) পর থেকেই টিউবওয়েলটি সম্পূর্ণ অকাজো অবস্থায় পড়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে।
অকাজো অবস্থায় থাকার কারণে বাধ্য হয়ে দূরের উৎস থেকে খাবার পানি ও শৌচাগারের কাজে ব্যবহারের পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের এ যেন কোমলমতি শিশুদের ভোগান্তির শেষ নেই।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৮৩ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে এবং তাঁদের পাঠদানে যুক্ত আছেন ৫ জন শিক্ষক ও শিক্ষিকা।
২০২৩-২৪ অর্থ বছরের জিপিএস (GPS) প্রকল্পের আওতায় ওয়াশ ব্লক নির্মাণ কাজ।GPS-WB-1106 (e-GP Tender ID: 897544), মেসার্স সুমন বিল্ডার্স (প্রোপাইটর: মোঃ আলমগীর কবীর সুমন, এম. এম. আলী রোড, যশোর)। ১৫৬৯৮০০ (পনের লাখ উনসত্তর হাজার আটশত) টাকা ০৮/০২/২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ।২০২৬ সালের জুন/২৬ মাসে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৫৬৯৮০০ টাকা খরচে ওয়াশ ব্লক ও টিউবওয়েল স্থাপন করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতা ও নিম্নমানের কাজের কারণে তা শিক্ষার্থীদের কোনো কাজেই আসছে না।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ওয়াশ ব্লকের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যখন ভবনটি বুঝিয়ে দেয়, তখন থেকেই এই টিউবওয়েল পানি উঠছে না।
যার কারনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হস্তান্তর কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে রাজি ছিলেন না,তবে শিক্ষা অফিসের নির্দেশে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন তিনি।
বিষয়টি সম্পর্কিত কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে জানানো হলেও দীর্ঘ দিন ধরে তা মেরামতের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীরা বলেন তাদের স্কুলে ওয়াসরুম থাকা সত্ত্বেও তারা ব্যবহার করতে পারছে না, এবং পুরাতন ওয়াসরুম স্যাররা ব্যবহারের কারনে তারা ব্যাবহার করতে করছে না, বাথরুমের বেগ পেলে তাদের যার যার বাড়িতে যেতে হয় এজন্য তাদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে, এর আশুসমাধণ চায় তারা।
সহকারী শিক্ষিকা উর্মী খাতুন বলেন, পুরাতন বাথরুম ব্যবহার উপযোগী না, ছাত্র ছাত্রীরা এটা ব্যবহার করতে চায়না,নতুন ওয়াসব্লক করে কোন লাভ হয়নি, আগের কষ্টরয়ে গেছে।
সহকারী শিক্ষিকা মন্জুয়ারা বলেন নতুন সেনিটেশন ব্যবস্থা ভালো না হওয়ার কারনে পুরতন ওয়াসরুমে সিরিয়াল পরে বাচ্চাদের।
সহকারী শিক্ষিকা নার্গিস সুলতানা বলেন নতুন ওয়াসরুম করে কোন লাভ হয়নি, আগের মতো কষ্ট করছি এর সুষ্ঠ সমাধান চাই।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাপসী দাস বলেন ২৪ সালে কাজ শুরু হলেও ২০২৬ সালে কাজ হস্তান্তর করেন কিন্তু সে সময় থেকেই ওয়াসব্লক ব্যবহার করার উপযোগী না।কর্তৃপক্ষ কে জানানোর পরেও কোন সুরহা মিলেনি।
সহকারী শিক্ষা অফিসার শামিম হোসেন বলেন
আমরা এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি অতিশীগ্রই সমাধান করার চেষ্টা করছি।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী ( জনস্বাস্থ্য) মৌসুমি হালদার বলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে আমরা চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে দ্রুত সমাদান হবে।
এ বিষয়ে সাধারণ অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, যশোর-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে টিউবওয়েলটি সচল করে শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।


