এসএম হোসেন, জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ।
সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাব্বির হোসেন হত্যা মামলায় ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ মোট ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড।
(২৪ আগস্ট) রবিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কানিজ ফাতেমা এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পোতাজিয়া গ্রামের ওয়াজ আলী, আব্দুল হামিদ ও আরশেদ আলী উভয়ই পিতা মোকছেদ আলী শেখ, আব্দুস সামাদ পিতা মোকবেল শেখ, মৃত এলাহী বক্সের ছেলে মোঃ কুনু, ইদ্রিস আলী উভয় পিতা মৃত এলাহী বক্স, সেলিম রেজা পিতা ওয়াজ আলী।
এ ছাড়া রাউতারা গ্রামের আব্দুর রহিমকে ২ বছরের কারাদণ্ড এবং পোতাজিয়ার নাজমুল, আব্দুল করিম, ফরিদ, ফখরুল, শফিক, রফিজ ও শুকুর আলীকে প্রত্যেককে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ের বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) মোঃ গোলাম সরওয়ার খান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে পোতাজিয়া গ্রামের ওসমান গণির সাথে আসামীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে ২০১২ সালের ২৩ আগস্ট সকালে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদী ও তার পরিবারের লোকদের ওপর হামলা চালায়। এতে সাব্বির হোসেনসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাব্বিরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
নিহতের সাব্বিরের বাবা ওসমান গণি বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। দীর্ঘ ১৩ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ এ মামলার রায় ঘোষণা হয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বাদী নিহত সাব্বিরের বলেন, রায়ে আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনি, উচ্চ আদালতে আপিল করব। তিনি আরও বলেন ওরা আমার এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ুয়া সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ৭ জনের মধ্যে ৫ জন আসামীই পলাতক থাকায় বাদী ওসমান গণি এবং তার পরিবার আতংকে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান। তিনি দাবি করেন, বাকি আসামীরা গ্রেফতার না হলে আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের যে কোন সময় হত্যা করতে পারে। পলাতক আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের অনুরোধ করেন বাদী ওসমান গণি।


