বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ; স্টাফ রিপোর্টারঃ
অভাব-অনটন, সীমাবদ্ধতা আর সামাজিক প্রতিকূলতাকে জয় করে সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ “রত্নগর্ভা মা ২০২৫” সম্মাননা পেয়েছেন মাগুরার কৃতী মা মিসেস রেহানা বেগম।
রোববার (১৭ মে) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। ২০০৩ সাল থেকে আজাদ প্রোডাক্টস প্রতিবছর সমাজে অবদান রাখা মায়েদের এই সম্মাননা প্রদান করে আসছে। এ বছর মোট ৩৫ জন মাকে সম্মানিত করা হয়। এর মধ্যে সাধারণ বিভাগে ২৫ জন এবং বিশেষ বিভাগে ১০ জন মা রয়েছেন। সাধারণ বিভাগে নির্বাচিতদের অন্যতম ছিলেন মিসেস রেহানা বেগম।
জানা যায়, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া রেহানা বেগম নিজে প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি পুরোপুরি শেষ করতে পারেননি। অল্প বয়সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী রুহুল আমিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর শুরু হয় সংগ্রামী সংসার জীবন। তবে দারিদ্র্য তাকে দমাতে পারেনি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তিনি সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেন অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে।
তার বড় কন্যা রহিমা খাতুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে নারীসেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন। দ্বিতীয় কন্যা কামরুন্নাহার কাকলী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে যশোর জেলার চিংড়া ধর্মপুর আলিম মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
এছাড়া বড় ছেলে কাজী মেহেদুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে Square Pharmaceuticals-এ পাবনায় ম্যানেজার পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
দ্বিতীয় পুত্র ডা. কাজী রাজিবুল ইসলাম বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে পরবর্তীতে পিজি হাসপাতাল থেকে ডিএলও এবং বিসিপিএস থেকে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানেy তিনি Dhaka Medical College Hospital-এ সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সবচেয়ে ছোট ছেলে কাজী হিজবুল ইসলাম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জৈব রসায়নে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বর্তমানে ACI Limited হেলথকেয়ার লিমিটেডে কোয়ালিটি ইনচার্জ ও এক্সিকিউটিভ ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মায়ের এই অর্জনে আবেগাপ্লুত হয়ে ডা. কাজী রাজিবুল ইসলাম বলেন,
“আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আমাদের মা। তাঁর ত্যাগ, পরিশ্রম ও অনুপ্রেরণার কারণেই আমরা আজ প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছি। মায়ের এই সম্মাননা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রেহানা বেগমের জীবনসংগ্রাম ও সন্তানদের সাফল্য বর্তমান সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন—একজন মায়ের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও ত্যাগই পারে একটি পরিবারকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে।


