মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা / গাইবান্ধা প্রতিনিধি
খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে দুজনের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাবেক স্বামী-স্ত্রীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর ও ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার মেয়েটির খোঁজ মেলেনি বলে দাবি করেছে তার পরিবার। এই নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, উপজেলার রাখালবুরুজ সরকার পাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের শিকার নারী একই গ্রামের শাহারুল সরকার ও শরিফা বেগম দম্পতির মেয়ে। আর নির্যাতিত সাবেক স্বামীর নাম মিলন মিয়া।
স্বজনরা জানায়, মেয়েটির প্রথম বিয়ে হয়েছিল বোচাদহ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। পরে স্বামী তালাক দিলে মেয়েটি দ্বিতীয়বার মিলন মিয়াকে বিয়ে করেন। তবে মিলনের পারিবারিক চাপে কিছুদিন পর আবার তালাক দিতে বাধ্য হন তিনি। এরপর মেয়েটি চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন।
সম্প্রতি ছুটিতে বাবার বাড়ি এলে আবারও মিলন মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সে পুনরায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়।
এর মধ্যে ২৬ আগস্ট সকালে মেয়েটি কাপড়চোপড় কিনতে গোবিন্দগঞ্জ শহরে গেলে মিলনের সঙ্গেও দেখা হয়। তারা গল্প করছিলেন, এমন সময় সরকার পাড়ার শাহারুল ইসলাম সরকার, সাদা মিয়া সরকারসহ কয়েকজন মিলে তাদের জোরপূর্বক ধরে বাড়িতে নিয়ে যায়।
পরে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে, বারান্দার সিমেন্টের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে দুজনের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়।
নির্যাতিতার মা শরিফা বেগম বলেন, “শুধু মারধরই নয়, তার মেয়েকে গরম ভাজনীর ছ্যাকা দিয়েও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মেয়েটির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।“
এ নিয়ে থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি বুলবুল হোসেন বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।


