এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
স্কুল ছুটির পর আইসক্রিম আর চকলেটের লোভ দেখিয়ে ৫ বছরের এক অবুঝ শিশুকে দোকানের ভেতরের কক্ষে ডেকে নেয় এক মুদি দোকানদার। এরপর সেখানে শিশুটির ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। শুধু তা-ই নয়, ঘটনা কাউকে বললে ‘জব্দ’ করা হবে এবং ‘মেরে ফেলা হবে’ বলে ওই শিশুকে হুমকিও দেয় ৫০ বছর বয়সী ওই ধর্ষক।
কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদ নগর ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া এই হাড়হিম করা নৃশংসতার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রথম শ্রেণীর ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে রামু থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা (মামলা নং- ৩১) দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত মো. ইউসুফকে (৫০) গ্রেফতারে পুলিশ চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।
চকলেটের আড়ালে ওত পেতে ছিল শিকারি :- এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্যাতিতা শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাবা একজন প্রবাসী হওয়ায় ৫ কন্যা সন্তানকে নিয়ে মা ওই এলাকায় বসবাস করেন। অভিযুক্ত মো. ইউসুফ দীর্ঘ দিন ধরেই শিশুটিকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে চকলেট ও আইসক্রিমের লোভ দেখিয়ে আসছিল।
গত ১২ মে দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির পর শিশুটি বাড়ি ফিরছিল। পথে ইউসুফের মুদি দোকানের সামনে আসতেই সে আইসক্রিম দেওয়ার নাম করে শিশুটিকে ডেকে নেয়। এরপর কোমলমতি শিশুটিকে ফুসলিয়ে দোকানের ভেতরের একটি গোপন কক্ষে নিয়ে গিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।
কামড়ে-আছাড়ে ক্ষতবিক্ষত, এরপর প্রাণনাশের হুমকি :- নির্যাতনের সময় শিশুটি ব্যথায় চিৎকার শুরু করলে পাষণ্ড ইউসুফ তাকে চেপে ধরে আছাড় দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে জখম করে। নৃশংসতা শেষে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিশুটির হাতে পুনরায় চকলেট ও আইসক্রিম গুঁজে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যাওয়ার সময় শাসিয়ে বলা হয়, এই বিষয় কাউকে বললে তোর স্কুলে যাওয়া চিরতরে বন্ধ করে দেবো এবং তোকে মেরে ফেলবো।
যেভাবে প্রকাশ পেল ঘটনা :- বাড়ি ফেরার পর শিশুটি যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে কান্না ভেঙে পড়লে মা তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। বারবার জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মায়ের কাছে অবুঝ শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে। পরে বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হয়। আসামির সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও পারিবারিক ভাবে সিদ্ধান্তের কারণে থানায় মামলা করতে কিছুটা সময় লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের কঠোর অবস্থান :- রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর সাথে এমন বর্বরতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।


