জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় লাইসেন্সের নিয়ম ভেঙে ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা এবং এ বিষয়ে সংবাদ প্রচার করায় সংবাদকর্মীকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত আবদুল মালেক মহেশখালী পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ‘ওয়ান হেল্থ কেয়ার’ নামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা ও লাইসেন্সের শর্তাবলীর ৭ নম্বর ধারায় স্পষ্ট ভাবে বলা আছে, লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে তা নবায়ন না করলে লাইসেন্সটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। কিন্তু এই আইনি শর্ত উপেক্ষা করেই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ রোগীদের সেবা দিয়ে আসছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হালনাগাদ নথিপত্রে দেখা যায়, মহেশখালী পৌরসভার হাসপাতাল রোডে অবস্থিত ‘ওয়ান হেল্থ কেয়ার’ ডায়াগনস্টিক-সি ক্যাটাগরি, নিবন্ধন নম্বর: HSM46745, লাইসেন্স নম্বর: HSM4524995 তালিকার ৭ নম্বরে রয়েছে। নথিতে এর নবায়নের তথ্য ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লাইসেন্সের মেয়াদ ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধতা নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় এক সংবাদকর্মী সংবাদ প্রচার করায় । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আবদুল মালেক তাঁর রাজনৈতিক পদের প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওই সংবাদকর্মীকে দেখে নেওয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এই বিষয়ে কথা বলার জন্য আব্দুল মালেক এর ব্যবহৃত ০১৮৮৩৮৫১০১৯ নং এ অনেক চেষ্টা করার পরও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই ।
এ দিকে হুমকির শিকার সাংবাদিক এস এম রুবেল বলেন, অবৈধ ডায়াগনস্টিক ল্যাব ও দালাল চক্রের কারণে সাধারণ রোগীদের জীবন ও চিকিৎসার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই জনস্বার্থে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলছি। এ কারণে হুমকি দেওয়া হলেও পিছিয়ে যাব না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। মানুষের জীবন নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি চলতে পারে না বলেও জানান তিনি ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স সনদের ৫ ও ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি অধ্যাদেশ ১৯৮২ লঙ্ঘন করলে কিংবা কোনো প্রকার অনিয়ম পাওয়া গেলে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া সনদের ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দৃশ্যমান স্থানে লাইসেন্স ঝুলিয়ে রাখার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ০১৮৮৩৮৫১০১৯
কর্মকর্তাদের বক্তব্যে চরম অমিল ও প্রশাসনিক স্থবিরতা
নবায়ন না থাকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের অমিলের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মুহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, আমার উপজেলার নয়টার মধ্যে একটার লাইসেন্স এখনো প্রক্রিয়াধীন, বাকি আটটার মধ্যে পাঁচটার নবায়ন হয়েছে, বাকি তিনটাকে আমরা সর্তক করেছি, তারা করে ফেলবে জানিয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি নবায়ন করে নাই। আমি গত সপ্তাহেও আমাদের স্বাস্থ্য পরিদর্শককে দিয়ে ফলোআপ করিয়েছি। তবে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের লিখিত নথির সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্যে বেশ অসঙ্গতি দেখা গেছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সরবরাহকৃত তথ্য মতে উপজেলার ৯টি প্রতিষ্ঠান নবায়নহীন হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মুহাম্মদ মাহফুজুল হক দাবি করছেন ৫টির নবায়ন হয়েছে।
আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের শিথিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং জেলা সিভিল সার্জন এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা ম্যাজিস্টেরিয়াল সাপোর্ট দেবো এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব।
আইন অমান্য করে অবৈধ ভাবে স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন মহল তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবদুল মালেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com