মোঃ শাহজালাল, বরগুনা।।
আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট এলাকার চাওড়া ও বাসুগী খাল স্থানীয় প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীরা দখল করে সহস্রাধীক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে তারা চৌরাস্তায় নির্মিত কালভার্টের মুখে বালুর বস্তা দিয়ে আটকে রেখেছেন। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে। বছরের পর বছর এ অবস্থা চলতে থাকলেও টনক নরছে না প্রশাসনের। দ্রুত খালের পাড়ে বসবাসরত লক্ষাধীক মানুষ ও আমতলী শহর রক্ষায় কালভার্ট, চাওড়া ও বাসুগী খালের দুইপাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাল খননের দাবী লক্ষাধীক মানুষের।
জানাগেছে, ১৯৮০ সালে আমতলী উপজেলা শহর রক্ষায় চাওড়া খালের ওপর ক্লোজার নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে বন্ধ হয়ে যায় চাওড়া নদীর পানি প্রবাহ। এতে পানি বন্ধি হয়ে পড়ে চাওড়া নদীর দুই পাড়ে বসবাসরত আমতলী পৌরসভা একাংশ, চাওড়া, কুকুয়া, হলদিয়া ও আমতলী সদর ইউনিয়নের লক্ষাধীক মানুষ। বছরের পর বছর পঁচা পানির দুর্ভোগে অতিষ্ট নদী পাড়ের মানুষ। এ খালের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড আমতলী বাঁধঘাট চৌরাস্তায় ৪৩/১ পোল্ডার বাসুগী ও চাওড়া খালের সংযোগ স্থালে কালভার্ট নির্মাণ করে। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই কালভার্ট, চাওড়া ও বাসুগী খাল ও খালের দুইপাড় দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীরা। তারা ওই খালের পাড়ে গত ১১ বছরে সহস্রাধীক স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও সহস্রাধীক পরিবার, মাছ বাজার, কাঁচা বাজার ও কশাইখানার ময়লা আজর্বনা ফেলায় খাল ভরাট হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে কালভার্টের এক মুখে বালুর বস্তা দিয়ে আটকে রেখেছেন প্রভাবশালীরা। ফলে পানি প্রবাহ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১০ দিন ধরে প্রবল বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও কালভার্টের মুখ দিয়ে এক ফোটা পানি নামেনি। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড খাল খননের উদ্যোগ নিয়েও প্রভাবশালীদের বাঁধার মুখে তা পারছেন না।
নকিব ও খালেক মিয়া বলেন, কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে চাওড়া খালের পানি নামাতে কিন্তু প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীরা তাদের স্থাপনা রক্ষায় কালভার্টের মুখে বালুর বাঁধ দিয়ে আটকে রেখেছে। পানি নামলে তাদের স্থাপনা ভেঙ্গে যাবে।
সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, আমতলী বাঁধঘাট চৌরাস্তার নির্মিত কালভার্ট, প্রভাবাহমান চাওড়া ও বাসুগী খালে সহস্রাধীক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। কাঁচাবাজার, মাছ বাজার, কশাইখানা সবই নির্মাণ করা হয়েছে খাল জুড়ে। ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে পরিবেশ চরম আকার ধারন করেছে। কালভার্টের মুখে বালুর বাঁধ দিয়ে রাখা হয়েছে। গত ১০ দিন ধরে প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় চাওড়া খাল ও মাঠঘাট তলিয়ে গেলেও ওই কালভার্ট দিয়ে পানি নামছে না।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই বালুর বস্তা সরিয়ে খালের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরো বলেন, খাল পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হান্নান প্রধান বলেন, খালের পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে ইতিমত্যে নোটিশ দেয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগীতায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাল খনন করা হবে।
মোঃ শাহজালাল,
বরগুনা।।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com