ঢাকাFriday , 26 June 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • আল কোরআন: সুরা কাউসার: বিস্ময়কর ইতিহাস

    admin
    June 26, 2026 5:35 pm
    Link Copied!

    মহসিন মিয়াজী, ঢাকা।

    সূরা আল কাওসার পবিত্র কুরআনের ১০৮ তম সূরা। সূরাটির আয়াত সংখ্যা ৩। যা পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে ছোট সূরা। সূরা আল কাওসার মক্কায় অবতীর্ণ হয় তাই সূরাটি মাক্কী সূরার শ্রেণীভুক্ত। সূরাটির অর্থ হচ্ছে প্রভূত কল্যাণ। এ সূরাকে সূরা নাহারও বলা হয়। সূরাটি মুসলিম উম্মাহর জন্যে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, সূরাটিতে জান্নাতের হাউযে কাউসার এর কথা বলা হয়েছে যা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স) কে দান করা হয়েছে।

    সূরা কাউসারের বাংলা অর্থ : 

    নিশ্চয় আমি আপনাকে আল-কাউসার দান করেছি। কাজেই আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামায আদায় করেন এবং কুরবানী করপন। (আপনার নাম-চিহ্ন কোন দিন মুছবে না, বরং) আপবার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীরাই নির্বংশ।

    পবিত্র কোরআনের ক্ষুদ্রতম সুরাগুলোর অন্যতম সুরা কাউসার। সুরাটি মাত্র তিনটি আয়াতে এক গভীর বার্তা বহন করে। মক্কার অবিশ্বাসীদের নেতা আস ইবনে ওয়াইল নবীজি (সা.)–কে ‘আবতার’ (নির্বংশ) বলে উপহাস করেছিল।

    অথচ ইতিহাসের অদ্ভুত পরিণতিতে তাঁর নাতি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস হয়ে উঠলেন হাদিস সংকলনের পথিকৃৎ।

    ‘কাউসার’ শব্দটি আরবি ‘কাছরাহ’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ প্রাচুর্য বা অধিক্য। ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে কাউসার শব্দটি সীমাহীন কল্যাণ ও আধ্যাত্মিক সম্পদের প্রতীক। (তাফসির আল-কুরআন আল-আজিম, বৈরুত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, ২০০০, ৪/৫৫৬)

    সুরাটি নাজিলের পটভূমি

    আল্লাহর রাসুল (সা.)–এর পুত্রসন্তানদের মৃত্যুর পর মক্কার কাফেররা তাঁকে ‘আবতার’ বা নির্বংশ বলে উপহাস করত। আস ইবনে ওয়াইল ছিলেন মক্কার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং ইসলামের কট্টর বিরোধী।

    সে বলে বেড়াত, ‘তাকে ছেড়ে দাও, সে তো একজন নির্বংশ ব্যক্তি, যার কোনো পুত্রসন্তান নেই। সে মারা গেলে কেউ তাকে স্মরণ করবে না, সুতরাং তাঁকে নিয়ে আমাদের চিন্তার কিছু নেই।’

    আবু জাহল, উকবা ইবনে আবু মুআইত এবং আবু লাহাবও একই ধরনের কটূক্তি করত। (তাফসির আল-কুরআন আল-আজিম, বৈরুত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, ২০০০, ৪/৫৫৭)

    ইতিহাসের শিক্ষা

    আস ইবনে ওয়াইলের পুত্র আমর ইবনে আস ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) হয়ে ওঠেন সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হাদিস বিশারদ। (জাহাবি, ১/৪১)

    তিনি ৭ হিজরিতে ইসলাম গ্রহণ করেন, তাঁর পিতার এক বছর আগে। তিনি কোরআন ও তাওরাত উভয়ের পণ্ডিত ছিলেন এবং ‘কারিউল কিতাবাইন’ (দুই কিতাবের পাঠক) উপাধিতে ভূষিত হন। আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁর জ্ঞানের কারণে তাঁকে বিশেষ মর্যাদা দিতেন। (ইবনুল আসির, ৩/২৩৩)

    আবদুল্লাহ ইবনে আমর আল্লাহর রাসুলের কাছ থেকে সরাসরি শ্রুত হাদিসগুলো লিখে রাখতেন। এই সংকলনের নাম ছিল ‘আস-সহিফা আস-সাদিকা’ অর্থাৎ ‘সত্যবাদী পাণ্ডুলিপি’।

    মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ‘আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমরের কাছে একটি পাণ্ডুলিপি দেখে জিজ্ঞাসা করলাম এটি কী? তিনি বললেন, ‘এটি আস-সাদিকা, যাতে আমি আল্লাহর রাসুলের কাছ থেকে সরাসরি শ্রুত হাদিসগুলো লিখেছি—এতে আমার ও নবীর মধ্যে কোনো মাধ্যম নেই।’

    এই সংকলনে প্রায় এক হাজার হাদিস ছিল। পরে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) তাঁর ‘মুসনাদে আহমাদ’ গ্রন্থে এই সম্পূর্ণ সংকলনটি অন্তর্ভুক্ত করেন ‘আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস’ অধ্যায়ে।

    আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) তাঁর এই পাণ্ডুলিপি সর্বদা বালিশের নিচে রাখতেন এবং নিয়মিত অনুশীলন করতেন। তাঁর নাতি আমর ইবনে শুয়াইব এই সংকলন থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন এবং মুহাদ্দিসগণ তাঁর বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা স্বীকার করেছেন।

    সহিহ বুখারিতে বর্ণিত আছে যে আবু হুরাইরা (রা.) বলেছেন: ‘সাহাবিদের মধ্যে আমার চেয়ে বেশি হাদিস কেউ বর্ণনা করেনি, কেবল আবদুল্লাহ ইবনে আমর ছাড়া। কারণ, তিনি হাদিস লিখতেন, আর আমি লিখতাম না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৩)

    এই স্বীকৃতি আবদুল্লাহ ইবনে আমরের হাদিস সংরক্ষণে অনন্য অবদানের প্রমাণ।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST