সিরাজুল ইসলাম : জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নাপিতখালী বনবিটের অরলতলী পাহাড় এলাকায় দীর্ঘদিন দখলদারদের কবলে থাকা প্রায় ১ একর সংরক্ষিত বনভূমি শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দখলমুক্ত করেছে বন বিভাগ। এসময় অবৈধভাবে নির্মিত ঘেরাবেড়া, ইটের দেয়াল ও পানির হাউস ভেঙে ফেলা হয়। উদ্ধারকৃত জমিতে পরে বনজ, ঔষধি এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বিভিন্ন চারা রোপণ করা হয়।
উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন নাপিতখালী বনবিট কর্মকর্তা জুয়েল চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন এফজি শাখাওয়াত, মর্তুজা আলী, হেডম্যান শফি আলম, এফসিভি সভাপতি বাহাদুল আলম, স্থানীয় ভিলেজাররা এবং সুফল প্রকল্প অরলতলী পাহারা দলের নারী-পুরুষ সদস্যরা।
বন বিভাগের সূত্র জানায়, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ মারুফ হোসেনের নির্দেশনায় এবং এসিএফ শীতল পালের তত্ত্বাবধানে ফুলছড়ি রেঞ্জের অধীনে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
বনবিট কর্মকর্তা জুয়েল চৌধুরী জানান, অরলতলী পাহাড়ের জমিগুলো ২০০২ সাল থেকেই জবরদখলকারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। যদিও ২০০৩-০৪ অর্থবছরে জমিটি বনায়নের আওতায় এনে উপকারভোগীদের প্লট আকারে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয়া হয়, কিন্তু পরবর্তীতে পুনরায় অপরাধীরা জমি দখল করে ফলজবাগান ও অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি করে।
“এসব জমি গেজেটভুক্ত সংরক্ষিত বনের আওতাধীন। তাই দখলমুক্ত করা ছাড়া বিকল্প ছিল না। এখন থেকে এখানে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পুনরায় বনায়ন শুরু হয়েছে,” বলেন জুয়েল চৌধুরী
ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা রাশিক আহসান বলেন, “উদ্ধারকৃত জমিতে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিসহ নানা ধরনের গাছের চারা রোপণ চলছে। এ ধরনের অভিযান ও উদ্যোগ নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকব
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দখলবাজরা দীর্ঘদিন ধরে এ বনভূমিতে বাগান, পুকুর এমনকি স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছিল। এতে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এ অভিযানের মাধ্যমে বনাঞ্চল কিছুটা হলেও রক্ষা পেলেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—অতীতে একাধিকবার দখলমুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে আবারও দখলদাররা এ জমি দখল করে নিয়েছিল? মাঠপর্যায়ে নজরদারির ঘাটতি নাকি প্রভাবশালী দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে এ চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে—তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
বন বিভাগ বলছে, এবার থেকে কঠোর নজরদারি ও স্থানীয় পাহারা দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের দখল ঠেকানো হবে।


