জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কে ডাম্পার (ড্রাম ট্রাক) ও মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই মোটর সাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার ১২ ই আগস্ট সকালে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ফারির বিল এলাকার ছগির আহমদের ছেলে রুবেল এবং টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার বাসিন্দা আরমান। স্থানীয়রা জানান, নিহত রুবেল এলাকায় অত্যন্ত অমায়িক ও ভদ্র স্বভাবের যুবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে কেরুনতলী এলাকায় মোটর সাইকেলটি যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ডাম্পারের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটর সাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান চালক রুবেল। এসময় মোটর সাইকেলের পেছনে থাকা আরমান গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তারও মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হোয়াইক্যং ও পালংখালী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
ঝরছে প্রাণ, নেই প্রশাসনিক নজরদারি:- স্থানীয়দের অভিযোগ কক্সবাজার-টেকনাফ এবং কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মহাসড়কে ফিটনেস বিহীন ড্রাম ট্রাক ও ডাম্পারের বেপরোয়া চলাচল, অদক্ষ ও লাইসেন্স বিহীন চালক এবং কিশোর-যুবকদের অতিরিক্ত গতিতে মোটর সাইকেল চালানো এবং পর্যাপ্ত সড়ক না থাকায় এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের শিথিল তদারকির কারণে অবৈধ এসব যানবাহন ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকদের দৌরাত্ম্য থামছে না। এর ফলে প্রতিনিয়ত তাজা প্রাণ ঝরে পড়ছে মহাসড়কে। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ফিটনেস বিহীন যানবাহন জব্দ, লাইসেন্সহীন চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়।


