রতন রায় :- কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
জনস্বপ্নের সেতু নির্মাণ শেষ, কিন্তু এক বিএনপি নেতার দৃঢ় বাধায় থমকে আছে সংযোগ সড়কের কাজ। প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এখনো মানুষের সেবায় কাজে লাগছে না। রৌমারী উপজেলার কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ ও শিক্ষার্থীরা রয়েছেন চরম যাতায়াত বিপর্যয়ের মধ্যে।
বিষয়টি রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাওয়াইরগ্রাম এলাকায়। নতুন নির্মিত এই সেতুর সংযোগ সড়কে মাটি ফেলতে বাধা দিচ্ছেন যাদুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি শাহাজাহান মন্ডল।
স্থানীয়রা জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতু দিয়ে কোনো যান চলাচল করতে পারছে না, ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। উঠানামার সময় মনে হয় কোনো দূর্ঘটনা যেন ঘটেই যায়।”
অটোভ্যান চালক নুরুজ্জামান বলেন, “সংযোগ সড়ক থাকলে কর্তিমারী থেকে চুলিয়ারচর পর্যন্ত যাতায়াত সুবিধা হতো। এখন যাত্রীরা কম ভাড়া দেন, আমাদের আয় কমে গেছে।”
রৌমারী উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “শাহাজাহান মন্ডলের একটি খাল সড়কের পাশে আছে। সংযোগ সড়ক দিতে সেই খাল ভরাটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ড্রেজার দিয়ে মাটি ফেলা হবে, যার পানির সঙ্গে মাটি গিয়ে খাল ভরাট করবে। তবুও তিনি মাটি ফেলতে অনুমতি দিচ্ছেন না।”
রৌমারী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মুনছুরুল হক জানান, “দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সেতু নির্মাণের ঠিকাদার সামসুদ্দিন হায়দার জানান, “শাহাজাহান মন্ডলকে সেতু নির্মাণের জন্য ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আরো একজনকে দিতে হয়েছে ৩ লাখ টাকা। এছাড়া সড়ক লাগোয়া একটি বাড়ির ক্ষতিপূরণ হিসেবে আধাপাকা ঘর বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “সেতু নির্মাণের সময় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মালামাল চুরি গেছে। কাজটি ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের ১৭ মে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাধার কারণে ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ করা গেছে।”
শাহাজাহান মন্ডল তার বাধার যুক্তি দেখিয়ে বলেন, “সড়কের জায়গাটা আমার রেকর্ডকৃত সম্পত্তি। আমার প্রায় এক বিঘা জমি এই সংযোগ সড়কের জন্য চলে যাচ্ছে। জমির দাম দিলেই আমি পথ ছাড়ব।”
তিনি ঠিকাদারের কাছে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, “ঠিকাদারকে আমি ৩০ লাখ টাকা নিয়েছি, সেটা আমার ব্যাপার।”
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কর্তিমারী জিসি ভায়া বড়াইবাড়ি বিওপি ক্যাম্প সড়কের ৬০.০৬ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৮৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮০ টাকা।
৬ কোটি টাকা ব্যয়ের সরকারি প্রকল্পটি আজ এক ব্যক্তির অনীহার কারণে অচল। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের বদলে এখনো চলছে হতাশা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com