নিজস্ব প্রতিবেদক
ফাল্গুনের মাঝেই মধুমতীর বুক চিরে জগে উঠছে সাদা দত্ত। ঘুরেবেড়ানোর এক নতুন যায়গা। কিন্তু এর প্রতিটি দৃশ্যই চিরচেনা। বালু চরে শুয়ে-বসেই দেখা মিলে পানির আর ছোট্ট ছোট্ট ঢেউ। হ্যা, এটা কক্সবাজার বা পতেঙ্গা সৈকতের কতা বলা হচ্ছে না। এটা কোনো সমুদ্র সৈকত নয়, জেগে ওঠা চর মাত্র। তবে সেখানে গেলে আপনার মনে এটা বোধহয় কক্সবাজারের ‘মিনি সংস্করণ’।
বলছিলাম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের মাঠলা গ্রামের মধুমতী নদীর বুকে জেগে ওঠা চরের কথা। জেলা শহর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বে এর অবস্থান। চরটি স্থানীয় ভাবে মাঠলা বা জালালাবাদের লেক / ব্রিজ এলাকা হিসেবে পরিচিত। তবে মনরোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে ইতিমধ্যে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত পেয়েছে।
গোপালগঞ্জ শহর থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। বিস্তৃত জলরাশি, খোলা আকাশ আর বাতাসের স্নিগ্ধ ছোঁয়া মিলিয়ে এলাকাটি যেন ছোট্ট এক সমুদ্র সৈকতে আবহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিকালের দিকে সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে পরিবার- পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন অনেকে।
স্থানীয়দের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ছুটির দিনগুলোতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেকে ঘুরতে আসেন। তরুণ- তরুণীদের পাশাপাশি পরিবারকেন্দিক আড্ডা ও অবসর কাটানোর জন্য স্থানটি হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় মিলনমেলা।
তবে পর্যটন সম্ভাবনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, যথাযথ উদ্যোগ নিলে মাঠলা লেক বা ব্রিজ এলাকাটি গোপালগঞ্জের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য আর সহজ যোগাযোগব্যবস্থার কারণে ‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত এই স্থানটি ইতিমধ্যেই গোপালগঞ্জের ভ্রমণ মানচিত্রে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।


