
ফাহিম হোসেন রিজু, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় ফের জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। সঙ্গে রয়েছে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাস। ফলে স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বছরের শেষ প্রান্তে এসে এমন শীতের দাপটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাতে তাপমাত্রা আরও নেমে যেতে পারে।
ভোরের দিকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা। শিশিরে ভিজে সড়ক-পথঘাট পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর কুয়াশার ঘনত্ব আরও বাড়ায় চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়।
চরম শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ। অনেক শ্রমজীবী মানুষ সকালে কাজে বের হতে পারছেন না। এতে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো পড়েছে চরম সংকটে। দিনমজুর, অটোরিকশা চালক ও নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট যেন বেড়েই চলেছে।
অটোরিকশা চালক জাইদুল ইসলাম ও শাকিল জানান, শীতের কারণে সকালে রাস্তায় নামা কষ্টকর হয়ে গেছে। আগে যেখানে দিনে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা আয় হতো, এখন সেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকাও জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শীত ও কুয়াশার প্রভাব পড়েছে কৃষিখাতেও। উপজেলার রামপুরা গ্রামের কৃষক সৈয়কত বলেন, বোরো ধানের বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এভাবে ঠান্ডা ও কুয়াশা অব্যাহত থাকলে চারাগাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এদিকে আবহাওয়ার এমন বিরূপ অবস্থায় শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। পাশাপাশি গৃহপালিত পশুপাখিও এই তীব্র শীতে কষ্টে রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও বাজারে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com