সিরাজুল ইসলাম,জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজারের চকরিয়া থানার হাজত থেকে দুর্জয় চৌধুরী (২৭) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকালে ঘটনাটি ঘটে। নিহত দুর্জয় চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেবের উপস্থিতিতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। তিনি একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুনের করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে দুর্জয়কে থানায় আনা হয়। ৫৪ ধারায় তাকে হাজতে রাখা হয়েছিল। পরদিন সকালে গলায় শার্ট পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এএসপি জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের কাছে জিডির কপি দেখাতে পারেননি।

নিহতের পিতা কমল চৌধুরী দাবি করেন, তার ছেলেকে আত্মহত্যা নয়, হত্যা করা হয়েছে। তার ভাষায়— “বিদ্যালয়ের অর্থ নিয়ে অভিযোগ উঠলেও আমরা ইতোমধ্যে ৭৬ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছি। প্রধান শিক্ষিকা দেশে ফেরার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে থানায় ডেকে নিয়ে রাতে আমার সামনেই দুর্জয়কে হাজতে রাখা হয়। কিন্তু সকালে জানানো হয়, সে আত্মহত্যা করেছে। আমি নিশ্চিত, এটি হত্যাকাণ্ড।”
ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। তারা দুর্জয়ের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি জানায়।
এদিকে প্রাথমিকভাবে দায়িত্বরত এএসআই হানিফ মিয়া, কনস্টেবল ইসরাত ও কনস্টেবল মহিউদ্দিনকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) অভিজিৎ দাস ও কোর্ট ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলামকে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের পর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com