কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি ঃ
এম এন জাকারিয়া খাঁন মুরাদ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ২ বছরের শিশু আয়েশা সিদ্দিকা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে একজন আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল সকালে চিলমারী থানাধীন মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকায় মোঃ আলমগীর হোসেনের কন্যা আয়েশা সিদ্দিকা (২) বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরদিন (১৮ এপ্রিল) নিহত শিশুর পিতা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চিলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৪(০৪)২০২৬, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ দণ্ডবিধি।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, পিপিএম দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারের নির্দেশ প্রদান করেন। তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উলিপুর সার্কেল) মোঃ আশরাফুল আলম, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমারের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি যৌথ দল তদন্তে নামে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১ মে) ভোর ৪টার দিকে মাচাবান্ধা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোছাঃ কহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী মোঃ রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ঘটনার বিস্তারিত উঠে আসে। আসামিদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন আয়েশা পাশের বাড়িতে তাদের সন্তানের সঙ্গে খেলছিল। এক পর্যায়ে খেলাধুলার সময় তাদের সন্তান আয়েশার চোখে কলম দিয়ে আঘাত করলে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করতে গিয়ে কহিনুর বেগম শিশুটির মুখ চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়। পরে মরদেহ একটি ড্রামে রেখে রাতে পাশের জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।
চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার বলেন, “ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে আসামিরা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আদালতে হাজির করা হলে একজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।”
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, “পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে শিশু আয়েশার নির্মম মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com