মহসিন মিয়াজী, ঢাকা।
জোহরান মামদানি। পুরো নাম- জোহরান কোয়ামে মামদানি। জন্ম: ১৮ অক্টোবর ১৯৯১। একজন মার্কিন রাজনীতিবিদ, যিনি নিউ ইয়র্ক সিটির নব-নির্বাচিত মেয়র। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস্ অফ আমেরিকা দলের সদস্য। ২০২১ সাল থেকে তিনি কুইন্সে অবস্থিত নিউ ইয়র্ক রাজ্য বিধানসভার ৩৬তম জেলার নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একাধারে নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র, দক্ষিণ এশিয়ার বংশোদ্ভূত আমেরিকার নাগরিক এবং প্রথম ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট মেয়র। শূন্য থেকে শুরু করা এই রাজনীতিবিদ মেয়র নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন।
আগামী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি মেয়র হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। নতুন মেয়রের জন্য একদিকে অফিসের প্রস্তুতি; অন্যদিকে চলছে তার বাসস্থানের প্রস্তুতি। স্ত্রী রমা দুয়াজিকে নিয়ে ৮০০ বর্গফুটের এককক্ষবিশিষ্ট ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করছেন মামদানি। সম্প্রতি ‘দ্য নিউ ইয়র্কার রেডিও আওয়ার’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট সম্পর্কে মামদানি বলেছিলেন, তাদের জন্য বাসাটি বেশ ছোট। অ্যাপার্টমেন্টের সিংকটি ছিদ্র হয়ে পানি পড়ে। এর জন্য তাকে বাড়ির কেয়ারটেকারের সহায়তা নিতে হয়, যা খুবই বিরক্তিকর বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, নিয়ম অনুযায়ী তার অ্যাপার্টমেন্টে হিটিং সিস্টেম ও গরম পানির ব্যবস্থা থাকলেও ওয়াশিং মেশিন বা ড্রায়ার নেই। ভবনটিতে একটি সাধারণ লন্ড্রি রুম আছে। ১৯২৯ সালে নির্মিত অ্যাপার্টমেন্টটিতে একটি লিফটও রয়েছে, যা কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ার মতো এলাকায় অকল্পনীয়।
সেই এককক্ষবিশিষ্ট অ্যাপার্টমেন্ট থেকে এই রাজনীতিবিদ এখন থেকে থাকবেন মেয়রের জন্য নির্ধারিত ভবনে। কিন্তু ৩৪ বছর বয়সি মামদানি এখনো সিদ্ধান্ত নেননি যে, তিনি নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়রের সরকারি বাসভবন ‘গ্রেসি ম্যানশনে’ যাবেন কি-না। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কোথায় থাকবেন-এ নিয়ে এখনো কোনো কিছু ঠিক করেননি তিনি।
যাহোক, যদি তিনি আপার ইস্ট সাইডে ২২৬ বছরের পুরাতন মেয়র প্রাসাদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে বাসস্থানের ছোটখাটো সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে তার। কারণ, ১১ হাজার বর্গফুটের বিস্তীর্ণ বাড়িতে থাকবে ঝলমলে আয়না, ঝাড়বাতি, খানদানি কাঠের দরজা, আপেল ও ডুমুর গাছ দিয়ে সারিবদ্ধ একটি বিশাল লন, সে সঙ্গে সবজির বাগান। মোট কথা তার নতুন বাসা হবে অনেক প্রশস্ত ও জাঁকজমকের।
গ্রেসি ম্যানশনকে একসময় নিউ ইয়র্ক টাইমস বর্ণনা করেছিল একেবারে ভিন্নভাবে। বলা হয়েছিল, এটি একটি লেবু রংয়ের কেকের মতো প্রাসাদ। প্রাসাদের বারান্দা থেকে ইস্ট রিভারের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। অ্যাস্টোরিয়ার একটি সাশ্রয়ী মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বিলাসবহুল এই প্রাসাদের বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন মামদানি।
নিরাপত্তার দিক থেকে প্রাসাদটিকে ঘিরে রেখেছে উচু দেয়াল, রয়েছে সিসিক্যামেরা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, কঠোর নিরাপত্তা ও লোক সমাগমের জন্য প্রায় সব মেয়রই শেষ পর্যন্ত বসবাসের জন্য গ্রেসি ম্যানশনকে বেছে নেয়। এখন দেখা যাক, চিলে কোঠা টাইপের কক্ষ ছেড়ে মেয়র প্রাসাদে উঠছেন কিনা মামদানি !


