
বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ;মাগুরা
মাগুরার বিউটি পার্লারের বিরুদ্ধে স্কুল শিক্ষিকার গুরুতর অভিযোগ, ভোক্তা অধিকারে মামলা
সৌন্দর্য বৃদ্ধির আশায় বিউটি পার্লারে গিয়ে উল্টো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন মাগুরার এক স্কুল শিক্ষিকা। চুলে কালার ও ব্লিচ করার পর তার চুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে মাগুরার “এনএস বিউটি পার্লার”-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নাহিদা আক্তার সাথী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ ঈদ উপলক্ষে চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মাগুরা শহরের “এনএস বিউটি পার্লার”-এ যান ওই শিক্ষিকা। সেখানে প্রায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে তার চুলে বিভিন্ন ধরনের ব্লিচ ও কালার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেবা নেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় বিপত্তি।
ভুক্তভোগী নাহিদা আক্তার সাথী জানান, পার্লার থেকে ফেরার পর তার চুল অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যায়, কুঁচকে যায় এবং জায়গায় জায়গায় ছিঁড়ে পড়তে শুরু করে। এমনকি মাথার কিছু অংশে টাকও দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন,
“আমি সুন্দর হওয়ার জন্য পার্লারে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার চুল এমনভাবে নষ্ট করেছে যে মানুষের সামনে যেতেও লজ্জা লাগছিল। চুলগুলো একেবারে ভেঙে পড়ছে। চিকিৎসক বলেছেন, পুরোপুরি ঠিক হতে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।”
তিনি আরও জানান, পার্লারের সেবার জন্য তার কাছ থেকে প্রায় ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক দেখানো, ওষুধ ও হেয়ার ট্রিটমেন্ট বাবদ আরও ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে।
ঘটনার পর তিনি মাগুরা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শুনানি শেষে পার্লার কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বিষয়টি আপাতত মীমাংসা করা হয়।
তবে শুধুমাত্র জরিমানায় সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগী এই শিক্ষিকা। তার দাবি, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন,
“ফেসবুকে ভিডিও ও আকর্ষণীয় প্রচারণা চালিয়ে তারা মানুষকে টানছে। কিন্তু বাস্তবে অদক্ষ সেবার কারণে নারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শুধু জরিমানা নয়, তাদের কার্যক্রমের সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার।”
নাহিদা আক্তার সাথী আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পর আরও কয়েকজন নারী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, যারা একই পার্লারের বিরুদ্ধে ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন।
এদিকে ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তিনি হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় বিভিন্নভাবে তাকে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে মাগুরাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, বিউটি পার্লার পরিচালনায় দক্ষতা, নিরাপদ কেমিক্যাল ব্যবহার এবং গ্রাহক সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com