উমংনু মারমা, বান্দরবান, প্রতিনিধি।
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার কারণে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টানা ছয় দিন বন্ধ থাকার পর বান্দরবান-চট্টগ্রাম (কেরানীহাট) সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের ব্রিজঘাটা এলাকায় সড়ক ও সেতু ভেঙে যাওয়ায় সাত দিন ধরে এই পথে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
জানা গেছে, বন্যার পানিতে কেরানীহাট সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় গত ছয় দিন ধরে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সোমবার রাত থেকে এই সড়কে আবারও যান চলাচল শুরু হয়েছে। এতে চট্টগ্রামের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু হলেও রাঙামাটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে।
এদিকে লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় গ্রামীণ সড়ক ও সংযোগ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে সড়ক ধসে গেছে, ভেঙে গেছে সেতু ও কালভার্ট। ফলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত এখনো দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করলেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। যেসব গ্রামীণ সড়ক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করে সীমিত আকারে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। তবে সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়া সড়ক ও সেতুগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সবুজ সরদার বলেন, “সরই ইউনিয়নের কিল্লাছড়া–বটতলী পাড়া হয়ে আন্ধারী এলাকায় যাওয়ার একমাত্র সড়কের সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এতে এলাকার মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত সেতুটি সংস্কার করা প্রয়োজন।”
রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের বাসিন্দা উ চ ইয় মার্মা বলেন, “সোনা সেপ্রু পাড়া, গুংক্ষ্যং ওপরপাড়া ও নিচেরপাড়ায় যাওয়ার প্রধান সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। এই সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।”
বান্দরবান জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, এবারের বন্যায় জেলায় প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি সেতু ও ১৩টি ছোট কালভার্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব গ্রামীণ সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, সেগুলো জরুরি ভিত্তিতে অন্তত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ছোট যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তোলার কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতুর পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com