নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি এই দেশের মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে এবং বিশ্বাস করে জনগণের উন্নতি মানেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে ২৮ মিনিটের এক দীর্ঘ ভাষণে তিনি দেশের ২০ কোটি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে যশোরের জনসভায় বলেছিলাম, ইনশাআল্লাহ জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। সরকার গঠনের পর আমরা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ শুরু করেছি। আমরা কথামালার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই, আমরা যা বলি তা-ই করি। শিক্ষা ক্ষেত্রে তার সরকারের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়ার আমলে প্রবর্তিত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারিত করে বর্তমানে উচ্চশিক্ষা পর্যায়েও মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। সেই সাথে মেধাবীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কৃষিখাতে বিপ্লব ঘটানোর ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী উলাসী খাল পুনঃখননের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কৃষকদের স্বার্থে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক শ্রেণির মানুষ উন্নয়ন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে এবং বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ ৫ আগস্টের পর তারাই ফ্যাসিবাদীদের আঁতাত করে নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর এবং শব্দ সংসদে বিল আকারে পাস করে তা বাস্তবায়ন করা হবে। গণতন্ত্রের জন্য জীবন দেওয়া প্রতিটি মানুষের আত্মত্যাগ আমরা বৃথা যেতে দেব না।
জনসভার আগে প্রধানমন্ত্রী শার্শা উপজেলার উলাসী যদুনাথপুরে ‘জিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন এবং শ্রমিকদের সহায়তায় ঝুড়ি মাথায় তুলে দিয়ে কাজের অনুপ্রেরণা যোগান। এরপর তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ বেডের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সফরসূচির অংশ হিসেবে তিনি ঐতিহ্যবাহী যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন এবং প্রাচীন তালপাতায় লেখা পুঁথিসহ দুর্লভ সংগ্রহসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি যশোরের উন্নয়নকে বেগবান করতে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয়, সবজি ও ফুল সংরক্ষনাগার নির্মাণ এবং ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন ও মোস্তফা আমির ফয়সাল। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে সমগ্র যশোর জেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com