রাহাত, ঢাকা//
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক ত্যাগী, পরীক্ষিত ও ক্লিন ইমেজের নেতার নাম আলোচনায় থাকায় রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে আংশিক ও আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে সংগঠন পরিচালিত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছিল। সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতেই এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনায় এবারের কমিটিতে ত্যাগী, পরিশ্রমী এবং আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যারা মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের মধ্যেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সভাপতি পদে আলোচনায় যারা
সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। রাজনৈতিক মহলের অনেকে মনে করছেন, তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পেতে পারেন। ফলে দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
সভাপতি পদে আরও জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ সোহাগ ভূঁইয়া। তিনি পূর্বে মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শাহজাহানপুর থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে একাধিক মামলার মুখোমুখি হলেও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূলের মধ্যে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও রাজপথের সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি সভাপতি পদের শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ প্রায় ১৮ বছর ধরে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০১০ সালের আন্দোলনে পুলিশের নির্যাতনে আহত হওয়ার পরও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। এছাড়া ২০২৩ সালের আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং কারাবরণ করেন।
সভাপতি পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা সজলকে অনেকেই একজন পরীক্ষিত সংগঠক হিসেবে দেখছেন।
ফয়সাল আহমেদ সজল বলেন,
“দল যদি আমার ওপর আস্থা রাখে, তাহলে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নেব।”
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক সাবা করিম লাকি, ফয়সাল হেদায়েত সৈকত পণ্ডিত, রাফিজুল হাই রাফিজ এবং শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি। জ্যাকি ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত।
এছাড়া আলোচনায় আছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসলাম।
তৃণমূলের প্রত্যাশা
দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, এবার তারা বিতর্কমুক্ত, ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের নেতৃত্বে দেখতে চান। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যারা রাজপথে ছিলেন এবং সংগঠন সচল রেখেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুবদলের এই পুনর্গঠন আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন কমিটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে রাজধানীর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com