রতন রায় :রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার দাবিতে আবারও উত্তাল উত্তরাঞ্চল। ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচই’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে রংপুর বিভাগের পাঁচটি জেলায় একযোগে ১১টি পয়েন্টে মশাল প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘরিয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের
"জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই" রাজারহাটের বিএনপির উদ্যোগে ঘরিয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন তিস্তা নদীর বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে তিস্তা নদীর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দাবীতে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, ও গাইবান্ধায় একই সময়ে এই কর্মসূচি পালিত হয়। আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক, সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন।
তিস্তা প্রবাহিত ১৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তিস্তা নদী রক্ষায় চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের তীব্রতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, ও গাইবান্ধা জেলা ভেদ করে বয়ে যাওয়া এই নদীর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা না হলে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলন করা হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।
তিনি বলেন, “তিস্তা শুধু উত্তরাঞ্চলের নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ। অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে হবে। জনগণ এখন তিস্তার ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাস্তায় নেমেছে।”
আলোচ্য কর্মসূচির সময় আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ আরও বলেন, “তিস্তা সমস্যা কোনো স্থানীয় ইস্যু নয়—এটি একটি জাতীয় সমস্যা। দীর্ঘ ষোল বছর এক ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসন রংপুরের মানুষের বুকের ভিতরে জগদ্দল পাথরের মতো বসিয়ে দিয়েছে, তবুও আমাদের কান্না থামেনি।”
তিনি অভিযোগ করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে এবং সরকারের ধীরগতির কারণে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিপক্ষে যারা দাঁড়াবে, তারা জাতীয় শত্রুতে পরিণত হবেন।”
একই সঙ্গে তিনি সরকারকে নভেম্বরে মধ্যেই মহাপরিকল্পনার কাজ বাস্তবায়ন শুরু করার অনুরোধ জানান। সময়মতো কাজ শুরু না হলে রংপুরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন করার হুমকি দেন তিনি।
আন্দোলন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে তিস্তার ভাঙন ও চর উত্থানের ফলে লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষিজমি বিলীন হওয়া, বাড়িঘর ভেঙে পড়া এবং পরিবেশগত ক্ষতির কারণে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন।
এর আগে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের পক্ষ থেকে কুড়িগ্রামে- রাজারহাটে গণমিছিল, গণসমাবেশ, পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের অবহেলায় তিস্তার বুকে অসংখ্য চর জেগে উঠছে, ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। ফলে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন লাখো মানুষ।
মশাল প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে অংশ নেন,পরে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন রাজারহাট উপজেলা শাখার সমন্বয়ক মোঃ আনিছুর রহমান এর সভাপতিত্বে পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার অন্যতম সমন্বয়ক ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ সোহেল, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ আশরাফুল ইসলাম রুবেল, মোঃ আনিছুর রহমান ফিরোজ, মোঃ আজিজুল হক, কুড়িগ্রাম জেলা যুবদল সভাপতি মোঃ রায়হান কবির, কুড়িগ্রাম জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ আব্দুল্যা আল আরমান, সদস্য সচিব মোঃ ইদ্রিস আলী, কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ আমিমুল ইহসান, রাজারহাট উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এডভোকেট শফিকুল ইসলাম ও সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস, সদস্য সচিব মো. নয়ন আলী,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান লিটন, সদস্য সচিব, রুবেল চৌধুরী, কৃষকদলের সদস্য সচিব মোঃ আলমগীর হোসেনসহ
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারী ও সদস্য সচিব মিজানুর রহমান সাদ্দাম প্রমুখ।
এদের সমন্বয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ছাত্র ও যুব সমাজের নেতাকর্মীরা বুড়িরহাট ক্রসবাঁধ তিস্তা পাড়ের অংশ নেন। তাদের একটাই স্লোগান ছিল—
“জাগো বাহে তিস্তা বাঁচই, তিস্তার ন্যায্য হিস্যা চাই।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com