আব্দুল্লাহৃ আল মামুন ( দেবহাটা উপজেলা প্রতিনিধি )
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও জরিমানার তোয়াক্কা না করেই পুনরায় শুরু হয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলন। গত ২২ এপ্রিল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হলেও মাত্র দু’দিনের মাথায় আবারও একই স্থানে ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলনের খবর পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
**ঘটনার প্রেক্ষাপট:** জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল (বুধবার) বেলা ১১টার দিকে দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের আতাপুর গ্রামে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটির গভীর থেকে বালু উত্তোলন করার অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহা সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬ (ঙ) এবং ১৫ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আতাপুর গ্রামের জামশেদ শিকারির ছেলে আবু বক্করকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে ইউএনও’র সাথে উপস্থিত ছিলেন তার টেবিল সহকারী সাদেক হোসেন। ওই সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “উপজেলায় কোনো প্রকার অবৈধ কাজ করতে দেওয়া হবে না। যেখানেই অনিয়ম হবে, অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
**বর্তমান পরিস্থিতি:** প্রশাসনের এই কঠোর বার্তার পরও আজ ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) পুনরায় সেই একই স্থানে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই কার্যক্রম চলায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, নামমাত্র জরিমানায় বালু খেকোদের দমানো সম্ভব হচ্ছে না।
**জনমনে প্রতিক্রিয়া:** জরিমানা করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় বালু উত্তোলন শুরু হওয়ায় দেবহাটার সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে দ্রুত এই কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো কঠোর পদক্ষেপ আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com