জেলা প্রতিনিধি,
কক্সবাজার
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত সংলগ্ন নাফ নদীর শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাটে গোসল করতে নেমে তলিয়ে গিয়ে দুই কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো— টেকনাফের উত্তর-পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছোট ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১৩) এবং একই এলাকার কেফায়েত উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ অরজিন (১৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে নিশান ও অরজিন নাফ নদীর শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাটে গোসল করতে নামে। এক পর্যায়ে নদীর প্রবল স্রোত ও জোয়ারের টানে তারা গভীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় এবং ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা নাফ নদীতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। অবশেষে জুমার নামাজের পর নদীর পানিতে ভেসে ওঠা অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই কিশোরকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় আইনি প্রক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন করছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নাফনদীর ভৌগোলিক অবস্থান ও চরিত্র অত্যন্ত বিপজ্জনক। জোয়ার-ভাটার সময় এখানকার পানির টানে প্রচণ্ড ঘূর্ণিস্রোত তৈরি হয়। তদুপরি দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শাহপরীর দ্বীপের ৫৫০ মিটার দীর্ঘ এই জেটিঘাটের রেলিং ও খুঁটির বিভিন্ন অংশ ধসে পড়েছে এবং আশপাশের তলদেশ বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিজ্ঞতার আলোকে এই ঘাটে গোসল বা নামার ক্ষেত্রে প্রধান ঝুঁকি সমূহ হচ্ছে:- নাফনদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনাস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার পানির টান অত্যন্ত তীব্র টান ও ঘূর্ণিস্রোত। নিরাপত্তা জ্যাকেট বা লাইফ বয়া ছাড়া নামলে সাঁতার জানা ব্যক্তিও নিমেষেই তলিয়ে যেতে পারে।
ঘাট এলাকায় কোনো সতর্কতা মূলক সাইন বোর্ড, উদ্ধারকারী লাইফ গার্ড বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকায় সাধারণ মানুষ ও কিশোররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে নামছে। জেটির ধসে যাওয়া অংশ ও নদীর তলদেশের অসমান গভীরে হঠাৎ পা পড়ে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও দ্বীপবাসীর দাবি, শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাটে অবিলম্বে কোনো প্রকার নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া নদীতে নামা নিষিদ্ধ করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। পাশাপাশি সেখানে সতর্কতা মূলক সাইন বোর্ড স্থাপন এবং উদ্ধার তৎপরতার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও লাইফ গার্ড রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com