মোঃ সাইফুল সাইফুল ইসলাম নাসিরনগর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি,
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে কলমধর গোষ্ঠী এবং রৌসুন মিয়ার গোষ্ঠীর মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ০৩ ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র এবং কুন্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব এডঃ নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, কুন্ডা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের প্রভাবশালী দুই গোষ্ঠী, কলমধর গোষ্ঠ ও রৌসুন মিয়ার গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আজ সকালে দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশ চলাকালীন সময়ে তুচ্ছ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের কিছু উত্তেজিত লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। তবে সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। বিপুল সংখ্যক দাঙ্গাকারীর সামনে পুলিশ হিমশিম খায় এবং এক পর্যায়ে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে চলে গেলে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের অনুরোধে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর সদস্যরা দাঙ্গাকারীদের উপর কঠোর অবস্থান নিলে সংঘর্ষকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
বর্তমানে এলাকায় সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আহতদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সরাইল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
নাসিরনগর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে এবং দোষীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


