
এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার//
ফুটপাত দখল, অবৈধ যানবাহন ও রোহিঙ্গা ড্রাইভার-যানজটে প্রায় অচল থাকে কক্সবাজার শহর।
বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন নগরী ও পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে এখন যেন প্রতিদিনই চলছে যানজটের যুদ্ধ। শহরের প্রধান সড়ক গুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মিশুক, অটোরিকশা, সিএনজি, ড্রামট্রাক আর টমটমের অবাধ চলাচলে থমকে যাচ্ছে যানবাহনের গতি। পথচারীরা নামছে সড়কে, হাসপাতাল ও জরুরি যানবাহনও আটকে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

ফুটপাত এখন দোকানদারদের দখলে, কক্সবাজার শহরের কলাতলী, সুগন্ধা পয়েন্ট, লাবণী, ঘুনগাছ তলা, লালদিঘীর পাড়, ভোলা বাবুর পেট্রোল পাম্প, বাজারঘাট, বার্মিজ মার্কেট, কালুর দোকান, খুরুস্কুল রাস্তার মাথা ও টার্মিনাল এলাকায় ফুটপাতের জায়গা দখল করে বসেছে শত শত দোকান, স্টল ও খাবারের টংঘর এবং মেড়ে মোড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ সিএনজি ষ্টেশন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অবৈধ ভাবে পর্যটনের সুযোগ নিয়ে রাস্তায় পসরা সাজিয়ে বসছেন। এতে সাধারণ পথচারীদের হাঁটার কোনো সুযোগ থাকে না।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন সহ অনেকেই বলেন, প্রতিদিনই দেখি দোকান আর গাড়ির ভিড়ে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার উপায় নেই। প্রশাসন আসে, উচ্ছেদ করে, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবারও আগের অবস্থা।
অবৈধ যানবাহনের দখলে প্রধান সড়ক, সাম্প্রতিক বছর গুলোতে শহরে রেজিস্ট্রেশন বিহীন ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক, মিশুক, অটোরিক্সা, সিএনজি, ড্রামট্রাক ও টমটমের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। এ গুলোর বেশিরভাগের চালক কিশোর, অনভিজ্ঞ ও রোহিঙ্গা। ট্রাফিক আইন অমান্য করে এসব যানবাহন এলোমেলো ভাবে সড়কে চলাচল করছে। পর্যটন মৌসুমে হাজারে হাজারে ইজিবাইক, মিশুক, অটোরিক্সা, সিএনজি ও টমটম শহরমূখী রাস্তায় নামে, যার মধ্যে অনেক গুলো অবৈধভাবে পরিচালিত।
কক্সবাজারের ট্রাফিক বিভাগ জনান, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই, কিন্তু প্রতিদিনই নতুন যানবাহন যুক্ত হচ্ছে। পর্যটনের চাপের কারণে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
রোহিঙ্গা ড্রাইভারদের নিয়ন্ত্রণহীন উপস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয় শিবিরে বসবাসরত কিছু রোহিঙ্গা ব্যক্তি ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ইজিবাইক, মিশুক, অটোরিক্সা, সিএনজি ও টমটম চালানোর কাজ করছেন। এতে একদিকে স্থানীয় চালকদের বেকারত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে।
জন দুর্ভোগের চিত্র:- প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত যানজটে আটকে থাকে প্রধান সড়ক গুলো। হাসপাতাল গামী রোগী, এ্যাম্বুলেন্স ও পর্যটকদের গাড়ি আটকে পড়ে দীর্ঘক্ষণ। অল্প জায়গায় বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচলের ফলে শব্দ দূষণ ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। পথচারী ও শিক্ষার্থীরা চলাচলে সবচেয়ে বেশি ঝুকিতে রয়েছে।
কক্সবাজার বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দরা বলেন,
রোহিঙ্গা শ্রমিকেরা নানা উপায়ে শহরে কাজ নিচ্ছেন। এটি শুধু আইনগত নয়, সামাজিক ঝুঁকিও তৈরি করছে। বিষয়টি সরকারিভাবে আরো কঠোর মনিটরিং করা প্রয়োজন।
প্রশাসনের অভিযান সাময়িক, স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিত, জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। কয়েক দিনের জন্য যানজট কিছুটা কমলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
জানা গেছে প্রশাসনের সীমিত জনবল ও পর্যাপ্ত পার্কিং স্থানের অভাবই বড় চ্যালেঞ্জ।
কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, আমরা পর্যটন মৌসুমে ফুটপাত ও সড়ক দখল মুক্ত রাখার চেষ্টা করছি। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্ট নগর পরিবহন পরিকল্পনা প্রয়োজন।
শহর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কক্সবাজারে পরিকল্পিত পার্কিং সুবিধা, রুট ভিত্তিক যানবাহন অনুমোদন ব্যবস্থা এবং পর্যটন মৌসুমে অতিরিক্ত পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয়।
কক্সবাজারে টেকসই ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনা ছাড়া প্রশাসনিক অভিযান কেবল অস্থায়ী সমাধান দেবে। ফুটপাত ও সড়ক উভয়কে পুনরুদ্ধার করে সমন্বিত নীতি নিতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com