তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বরাবর,
মাননীয় মন্ত্রী,
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
মাননীয় মহোদয়,
শুভেচ্ছা ও বিনয়পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র এবং দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার বর্তমানে এক অভূতপূর্ব জনতাত্ত্বিক ও কাঠামোগত চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক দিকে জেলার ২৯ লক্ষ স্থায়ী বাসিন্দা, অন্য দিকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া প্রায় ১৫ লক্ষ রোহিঙ্গা - সব মিলিয়ে প্রায় ৪৪ লক্ষ মানুষের এই বিশাল ভার বহন করতে গিয়ে পর্যটন রাজধানীর আইন শৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আজ চরম সংকটাপন্ন।
একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এবং এই অঞ্চলের বৃহত্তর স্বার্থে আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিনীতভাবে উপস্থাপন করছি:-
১. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নির্মূল: কক্সবাজার বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রের ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর অভ্যন্তরে ও আশেপাশে মাদক সিন্ডিকেটের বিস্তার জেলাবাসীর জন্য এক বিরাট নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাফল্য থাকলেও, তৃণমূল পর্যায়ে নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
• জনদাবি :- ক্যাম্প এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বৃদ্ধি করে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে আসা বন্ধ করা এবং শহর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূল করা।
২. জেলা সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন ও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার: জেলার ২৯ লক্ষ স্থায়ী নাগরিক এবং ১৫ লক্ষ রোহিঙ্গার জন্য একমাত্র বড় বিশেষায়িত কেন্দ্র হলো ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতাল। কিন্তু এই বিপুল জনসংখ্যার বিপরীতে শয্যা ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত নগণ্য। বিশেষ করে এই অঞ্চলে কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
• জনদাবি :- সদর হাসপাতাল কে ১০০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং দরিদ্র রোগীদের কথা বিবেচনা করে সেখানে একটি ৪০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার দ্রুততম সময়ে চালু করা।
৩. যানজট নিরসন ও অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ: কক্সবাজার পৌরসভা এলাকায় হাজার হাজার লাইসেন্সবিহীন ইজি-বাইক ও টমটম চলাচলের ফলে প্রধান সড়কগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে। এর সাথে রোহিঙ্গা ক্যাম্প অভিমুখী কয়েকশ এনজিও ও মালবাহী যানের চাপ যানজটকে অসহনীয় করে তুলেছে।
• জনদাবি :- পৌরসভার প্রধান সড়কে অবৈধ যানবাহন উচ্ছেদ, আধুনিক ট্রাফিক সিগনাল ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং ক্যাম্প অভিমুখী ভারী যানবাহনের জন্য পৃথক বাইপাস সড়ক কার্যকর করা।
৪. চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ৬-লেন সড়ক উন্নয়ন: রেলপথ চালু হওয়ায় যোগাযোগে নতুন মাত্রা যুক্ত হলেও সড়ক পথের গুরুত্ব কমেনি। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এবং পণ্যবাহী গাড়ি এই সরু পথে যাতায়াত করে। যার কারণে কোন না কোন জায়গায় প্রায় সময় দূর্ঘটায় জীবন হানি নিয়মিত ঘটনায় রূপ নিয়েছে, এমতাবস্থায় ৪৪ লক্ষ মানুষের জীবন মান ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে এই সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
• জনদাবি :- চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটিকে দ্রুত ৬-লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু করা, যা অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে এই অঞ্চলের চেহারা বদলে দেবে।
৫. পর্যটন বান্ধব পরিবেশ ও নাগরিক নিরাপত্তা: পর্যটন রাজধানী হিসেবে কক্সবাজারের পরিচিতি বিশ্বজুড়ে। কিন্তু যত্রতত্র হকার, ছিনতাই ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পর্যটকরা বিমুখ হচ্ছেন।
• জনদাবি :- পর্যটন পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো এবং পুরো সৈকত এলাকাকে 'স্মার্ট মনিটরিং'-এর আওতায় আনা, সৈকত এলাকার ফুটপাত অবৈধ দখল মুক্ত করে পর্যটকদের নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চত করা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা ।
মাননীয় মন্ত্রী, কক্সবাজার আমাদের জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। এই অঞ্চলের ৪৪ লক্ষ মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন এবং দেশের পর্যটন ইমেজ রক্ষা করতে আপনার সরাসরি হস্তক্ষেপ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব একান্ত কাম্য। আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি নিশ্চিত করত কক্সবাজারকে আপনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করবেন।
বিনীত,
কক্সবাজারের সচেতন নাগরিক সমাজ ও আপামর জনসাধারণের পক্ষে
মো: কামরুল হাসান
দৈনিক গোমতীর বার্তা
জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com