কুলাউড়া( মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা:
কুলাউড়ার ইছলাছড়া খাসিয়া পুঞ্জির খাসিয়া সম্প্রদায়কে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২ বছরে খাসিয়াদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৩০ টি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বন বিভাগ। অভিযোগে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের ইছলাছড়া পান পুঞ্জিতে দেড় শতাধিক খাসিয়া পরিবারের বসবাস। পাকিস্তান আমল থেকে খাসিয়ারা ইছলাছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে বসবাস করছে এবং পান চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে।কিন্তু নিরীহ খাসিয়াদের নানাভাবে নাজেহাল করেছে প্রভাবশালীদের পাশাপাশি বনবিভাগ। বিশেষ করে বন বিভাগের কুলাউড়া রেঞ্জ অফিস,বরমচাল বিট অফিসের ফরেষ্টারগন ২০২২ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত একেরপর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করছে। বনবিভাগের হয়রানিমূলক মামলা থেকে রেহাই পায়নি ৮৫ বছরের বৃদ্ধা নারী থেকে শুরু করে ৯০ বছরের বৃদ্ধ খাসিয়ার। জানা যায়, ইছলাছড়া পুঞ্জিতে কোন সেগুন গাছের অস্বিত্ব নেই। এর পরও সেগুন গাছ চুরি,বনভূমি জবরদখলসহ নানা অজুহাতে ২০২২ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ৩০ টি মামলা দিয়েছে বন বিভাগ। মামলাগুলি মোকাবেলা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে খাসিয়ারা। এক হিসাবে দেখা যায়, বর্তমান হেডম্যান এর ছেলে ফ্লো হ্যাবেন জনির ৩টি মামলা,লাকি স্টারের বিরুদ্ধে ২ টি মামলা, ৮০ বছর বয়স্ক লিডিয়া খাসিয়ার বিরুদ্ধে ২ টি মামলা, আলফায়েজ খাসিয়ার বিরুদ্ধে ৪ টি মামলা,ব্রিনাল খাসিয়ার বিরুদ্ধে ১ টি,হরলাল খাসিয়ার বিরুদ্ধে ৩ টি, স্ট্রীম লিড খাসিয়ার বিরুদ্ধে ৪টি মামলা ও মন্নান খংলার বিরুদ্ধে ৪ টি মামলাসহ ইছলাছড়া পুঞ্জির খাসিয়াদের বিরুদ্ধে বনবিভাগ কমপক্ষে ৩০ টি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ইছলাছড়া পুঞ্জির খাসিয়া ফ্লো হ্যাভেন অভিযোগ করে বলেন, বনবিভাগ একটি কুচক্রীমহলের ইন্বনে সম্প্রতি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।সম্প্রতি কুলাউড়া থানায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে আমরা আমাদের পুঞ্জিতে সুপারি ও পানের চারা রোপন করে থাকি। বনবিভাগের বরমচাল বিটের ফরেষ্ট গার্ড প্রতিনিয়ত এসে টাকা দাবী করে। বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে ৪/৫ হাজার টাকা চাদা নিয়ে থাকে। বিশেষ করে শুকনো জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গেলে ফরেষ্টের গার্ডকে চাদার টাকা দিতে হয়। তিনি বলেন, বনবিভাগ প্রভাবশালীদের কাছে বনভূমির মুলবান কাঠ বিক্রি করে আংগুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। ফরেষ্টের কর্মকর্তারা যদি অনিয়মের আশ্রয় না নিতো তাহলে কুলাউড়ার পাহাড়ে সবুজ বিপ্লব হতো। গ্রীন কুলাউড়া হয়ে যেতো। তিনি আরও বলেন,খাসিয়ারা কখনো গাছ কাটে না। গাছ রক্ষা করে গাছের নীচে পান রোপন করে থাকে।
এব্যাপারে কুলাউড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা রবীন সিংহ বলেন,খাসিয়াদের অভিযোগ সত্য নয়। তারা বনবিভাগের জায়গা জবর দখল করে পানের ঝুম প্রতিষ্টা করেছে। তবে নতুন করে তাদেকে কোন বনভূমি জবর দখল করতে দেওয়া হবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com