নোমাইনুল ইসলাম, বাঘাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, এমপি। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের বাস্তব চিত্র সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা ও দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা, আশ্রয়কেন্দ্র এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য জানার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজন, ত্রাণ বিতরণের অগ্রগতি এবং উদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত নারী, শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসাসেবা এবং নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় যাতে কোনো পরিবার ত্রাণসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
পরে বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিমন্ত্রী নিজ হাতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এসব ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন এবং তাদের দুর্দিনে সরকার পাশে রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, "প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী দেশের যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বাঘাইছড়ির ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। কেউ যেন খাদ্য, চিকিৎসা কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে কষ্ট না পান, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।"
তিনি আরও বলেন, "বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও অন্যান্য অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন কার্যক্রমও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।"
তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে বন্যা-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুশ্রী সাহা, বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দীন মজুমদারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন তালুকদার দিপু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী নিজাম উদ্দিন বাবু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলী, সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল আলম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com