বরগুনা প্রতিনিধি:
সরকারের অধীনে পরিচালিত বরগুনা লাকুরতলা সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র-এ প্যারামেডিক্স পদে কর্মরত মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তার বিএমডিসি বা বিএনএমসি রেজিস্ট্রেশন নেই, এমনকি কোনো ইন্টার্নি সার্টিফিকেটও নেই। তবুও তিনি চিকিৎসক পরিচয়ে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকে অফিস সময়েই বরগুনা শহরের ফার্মেসী
পট্টিতে অবস্থিত নিউ গ্রিন লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মিলন মেডিকেলে রোগী দেখতেন। সেখানে সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে সাইনবোর্ড টানানো ছিল বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রের সহকারী উপপরিদর্শক বাসুদেব দেবনাথকে বৃহস্পতিবার অফিসে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি বলে জানা যায়।
নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় এক বছরের অভিজ্ঞতার সনদ সম্পর্কেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ঝালকাঠি -এর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম ব্যবহার করে ভুয়া সনদ জমা দেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক নাসিম সরদার বলেন—
“মাহবুব নামের কাউকে আমরা কোনো সার্টিফিকেট বা অভিজ্ঞতার সনদ দিইনি।” এটা সম্পুর্ন ভুয়া" উনাকে ধরে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।
ভুয়া চিকিৎসক মাহবুবুর রহমান নিজেও অনুসন্ধানকালে স্বীকার করেন—
“আমার সবই ভুয়া। অভিজ্ঞতার সনদও কম্পিউটারে বানানো। মূলত আমি ঢাকা ছিলাম তখন আমার ১বছরের একটি অভিজ্ঞতার সনদ প্রয়োজন তখন ঝালকাঠিতে আমার একজন পরিচিত ভাই তিনি একটি ঔষধ কম্পানিতে চাকরি করতেন তার কাছে বলার পর তিনি নিজেই কম্পিউটার থেকে বের করে সিগনেচার করে বানিয়ে দেয়। টাকা দিলে দেশে সব করা যায়।”
৬ মার্চ এটি এন নিউজে এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের। এরপর জেলা সমাজসেবা উপপরিচালক তার নিয়োগ ও নথিপত্র যাচাইয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেন।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন—
“সব নথি যাচাই করে দেখা গেছে, তিনি জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে নিয়োগ পেয়েছেন। সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। জেলা সিভিল সার্জনও প্রতিবেদন দিয়েছেন—তার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কীভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন নিয়োগ সম্ভব হলো—এ প্রশ্ন এখন জনমনে দেখা দিয়েছে।
তাদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com