সিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি বান্দরবান
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের Bandarban Sadar Hospital-এ প্রায় ৪ কোটি টাকার ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কেমিক্যাল ও অন্যান্য মালামাল ক্রয়কে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া ঘিরে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, গোপন তথ্য ফাঁস এবং বিতর্কিত কার্যাদেশ দেওয়ার ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের জন্য ওষুধ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, কেমিক্যাল, ব্যান্ডেজ, লিনেন ও আসবাবপত্রসহ একাধিক খাতে প্রায় ৪ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরুর আগেই গোপন মূল্যকোড ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিশেষ সুবিধাভোগী কয়েকজন ঠিকাদারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পুরো দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে অধিকাংশ কার্যাদেশ নিজেদের দখলে নেয়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে মালামাল সরবরাহ নিয়ে। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী যেখানে ৯০ দিনের মধ্যে সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা, সেখানে কার্যাদেশ পাওয়ার মাত্র ১৬ দিনের মধ্যেই প্রায় ৯০ শতাংশ মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অথচ গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে সেই বিপুল পরিমাণ মালামালের কোনো দৃশ্যমান উপস্থিতি দেখতে না পাওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ভেতরে একটি প্রভাবশালী চক্র ওষুধ ক্রয়, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, পরীক্ষার ফি এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্র সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার বদলে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। নতুন করে সরবরাহ করা কিছু যন্ত্রপাতি ও আসবাবের মান নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
এদিকে প্রশাসনিক অস্থিরতাও সামনে এসেছে। Dr. Mohammad Shahin Hossain Chowdhury অভিযোগ করেছেন, আর্থিক হিসাব বন্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কয়েকদিন অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, যা সরকারি কার্যক্রমে অসহযোগিতার শামিল।
অন্যদিকে টেন্ডার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা Dr. Atonu Chowdhury দাবি করেছেন, নিয়ম মেনেই মালামাল গ্রহণ করা হয়েছে এবং সরবরাহকৃত ওষুধ রোগীদের দেওয়া হচ্ছে।
তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি ই-জিপি পদ্ধতিতে হওয়া টেন্ডারে অনিয়মের সুযোগ নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— যদি সবকিছু নিয়ম মেনে হয়ে থাকে, তাহলে সরবরাহকৃত কোটি টাকার মালামাল সরেজমিনে দেখানো গেল না কেন?
জনগণের করের টাকায় পরিচালিত স্বাস্থ্যখাতের এই বিশাল ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে এখন বান্দরবানে বাড়ছে ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন। সচেতন মহল বলছে, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হলে জনআস্থা আরও সংকটে পড়বে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com