মহসিন মিয়াজী, বানিজ্য ও অর্থনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫,৫৭,২১৭ কোটি টাকা। এরপরেই রয়েছে ২,৬৮,৭৩৩ কোটি টাকার অশ্রেনীকৃত পুনঃতফসিলকৃত ঋণ, ১,৮২,৪১৯ কোটি টাকার স্থগিতাদেশের অধীনে থাকা ঋণ এবং ৮৩,৪৭৯ কোটি টাকার অবলোপনকৃত ঋণ।
অবলোপনকৃত ঋণ বলতে বোঝায় এমন ঋণ, যা পুনরুদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে ব্যাংক মনে করে এবং ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করে তা সক্রিয় হিসাব থেকে বাদ দেয়।
পুনঃতফসিলকৃত ঋণ আগের বছরের চেয়ে ২৮.২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে ১,৭৮,১৬৪ কোটি টাকার ঋণ পরবর্তীতে আবার মন্দ ঋণে পরিণত হয়েছে।
গত বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালার আওতায়, সহজ শর্তে ব্যাংকগুলো ১,৭০,৫০৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই পরিমাণ ছিল ৮৫,৬৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পুনঃতফসিলের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে যে, মূলত মোট খেলাপি ঋণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধির কারণে ২০২৫ সালে ব্যাংকিং খাতের সম্পদের গুণগত মান (অ্যাসেট কোয়ালিটি) উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ব্যাংকাররা জানান, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস আলম গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপসহ তৎকালীন সরকারের সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বড় অঙ্কের ঋণ খেলাপি করেছে, যা খাতের মন্দ ঋণের বোঝাকে আরও ভারী করেছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এই অর্থের একটি বড় অংশই ইতিমধ্যে দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ থেকে কোনো আয় না আসা এবং ঋণ আদায় পরিস্থিতি দুর্বল হওয়ার কারণে অনেক ব্যাংকের মূলধন ভিত্তি (ক্যাপিটাল বেস) ঋণাত্মক বা নেতিবাচক পর্যায়ে নেমে গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com