নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের সাড়াপোল রূপদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। জরাজীর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থা, সীমানা প্রাচীরের অভাব এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের টাকায় আয়ার বেতন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান সড়ক থেকে স্কুল পর্যন্ত মাত্র ১২০–১৩০ ফুট দূরত্বের মাঠের অবস্থা অত্যন্ত নাজেহাল। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো মাঠ কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্কুলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মোট ১৮৪ জন শিক্ষার্থী (৭৫ জন ছাত্র ও ১০৯ জন ছাত্রী) অধ্যয়নরত থাকলেও যাতায়াতের বেহাল দশার কারণে বর্ষা মৌসুমে উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।
যাতায়াতের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। সীমানা প্রাচীর না থাকা এবং নৈশপ্রহরী বা দপ্তরির পদটি দীর্ঘদিন খালি থাকায় পুরো বিদ্যালয়টি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এতে যেকোনো সময় চুরি বা বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সরকারি কোনো সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ বা কর্মী না থাকায় তৈরি হয়েছে বিতর্কিত এক পরিস্থিতি। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর (আয়া) বেতনের যোগান দিতে ভর্তির সময় প্রতি মাসের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ টাকা (বছরে ৬০ টাকা) করে তোলা হচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এভাবে টাকা তোলার কোনো নিয়ম না থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতার অজুহাতে চলছে এই নিয়মবহির্ভূত চর্চা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হোসেন বলেন:”বৃষ্টির দিনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হেঁটে স্কুলে ঢোকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোমলমতি শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে মেইন রাস্তা থেকে স্কুল পর্যন্ত ১২০ ফুটের রাস্তাটি পাকাকরণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং দ্রুত একজন নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে আমরা বাধ্য হয়েই ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে মাসিক ৫ টাকা (বছরে ৬০ টাকা) নিয়ে আয়ার বেতন মিটাই।”
এ বিষয়ে উপজেলা- সহকারী শিক্ষা অফিসার সোহরাব হোসেন জানান, “স্কুলটিতে রাস্তার সমস্যা সত্যি রয়েছে। তবে এ ধরনের কাজের জন্য আমাদের সরাসরি সরকারি বরাদ্দ থাকে না, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ইতিপূর্বে একটি আবেদন করা হয়েছিল। রাস্তাটি সত্যি অতি জরুরি।”
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তুলে “আয়া”রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এভাবে টাকা তোলার কোনো নিয়ম নেই; তবে ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকরা চাইলে রেজুলেশনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়ে কোনো কমিটিই নেই—এ তথ্য সামনে আনলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখে আপনাকে জানাব।”
একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন দুর্দশা কাটিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার সচেতন মহল।

