
রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি//
রোয়াংছড়িতে কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু পরিবর্তন ও নারীর সহনশীলতা বিষয়ে আলোচনা সভা বান্দরবানের রোয়াংছিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) রোয়াংছড়ি উপজেলা ভ্যান হল রুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন (গ্রাউস)। সহযোগিতা করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আর্থিক সহায়তা প্রদান করে অ্যাম্বেসি অব সুইডেন।
‘কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু পরিবর্তন ও নারীর সহনশীলতা নিয়ে (সিআরইএ) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহি অফিসার তাজমিন আলম তুলি, রোয়াংছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: এহসানুল হক, রোয়াংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ এম জাকের আহমেদ, ২নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তংঞ্চঙ্গ্যা, ৪নং নোয়াপতং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চনুমং মারমা ছিলেন প্রকল্প কমিটির সভাপতি মংপু মারমা,এবং প্রকল্প কো-অর্ডিনেটর অম্লান চাকমা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক মংবাথুই মারমা ও সমাজ কর্মী নারী সহ কমিটির সকল সদস্য
প্রকল্প কো-অর্ডিনেটর অম্লান চাকমা বলেন বনজ সম্পদ ধ্বংসের ফলে আজ প্রকৃতি বিপর্যস্ত। নদী-ঝিরিতে পানি হ্রাস পাচ্ছে। জলবায়ু সহনশীলতার জন্য বৃক্ষরোপণে সবাইকে অংশ নিতে হবে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নারীসহ অন্য ভুক্তভোগীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার কাজ করে। আমরা সাধারণত সরাসরি কোনো সেবা দিই না। আমরা মূলত তাদের সক্ষম করে তোলার চেষ্টা করি। সরাসরি সেবা না দিয়ে এ কাজ করা খুব কঠিন। তারা কীভাবে নিজের অধিকারের বিষয়ে সচেতন হবে, এসব বিষয় নিয়ে কাজ করি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ক্ষেত্রে গ্রামীণ নারীদের বাদ দিয়ে কিছুই করা যাবে না। নারীরা পরিবেশের মৌলিক সবকিছুর সঙ্গেই নিয়োজিত থাকেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য, অধিকারসহ প্রভৃতি জায়গা থেকে তাঁরাই বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী নয়। তারপরও এর প্রভাব শিশুদেরও ভোগ করতে হয়। তারা তাদের শৈশব হারায়। অনেক সময় মা–বাবাকেও হারাতে হয় তাদের।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাজমিন আলম তুলি বলেন দুর্যোগকালীন নারীর ভূমিকাই থাকে মুখ্য। তিনিই তাঁর সন্তানদের মুখে যেকোনো উপায়ে খাদ্য তুলে দেন। এ ছাড়া গৃহস্থালির সম্পদ রক্ষার বিষয়টিও নারীর দায়িত্বে থাকে। তাই নারীকে এসব বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
দুর্যোগকালীন সুপেয় পানি জোগাড় নারীকেই করতে হয়। দেখা যায়, পুরুষেরা বাড়ির বাইরে যান কাজের সন্ধানে। তাই নারীকেই পানি জোগাড় করতে হয়। আমরা দেখতে পাই, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নারীকেই বেশি বাধাগ্রস্ত করে।
আমাদের পাহাড়ি অঞ্চলে নারীরা এমনিতেই অনেক ধরনের বঞ্চনা ও শোষণের শিকার হন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সে ক্ষেত্রে তাঁদের সামনে বাড়তি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাই নারীকে অনেক বেশি তথ্যসমৃদ্ধ করতে হবে, প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কারণ, তাঁরা সচেতন হলে পরিবারের অন্যরা রক্ষা পাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com