উমংনু মারমা
বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিলটন দস্তিদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ ও খাদ্যশস্য ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২ নম্বর তারাছা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে লেগ্রীব্রাং থেকে কমদমপ্রু পাড়া পর্যন্ত সড়ক পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের জন্য নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। একইভাবে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অংতং পাড়া থেকে ছাংকিং পাড়া পর্যন্ত সড়ক সংস্কার প্রকল্পের অনুকূলে খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেখানো হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট সড়কটি অনেক আগেই এলাকাবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে সংস্কার করা হয়েছিল। নতুন করে সেখানে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ হয়নি।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় দেখানো একাধিক সড়কে বাস্তবে কোনো কাজ না হলেও কাগজপত্রে সংস্কার কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো অবকাঠামোকে নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ ও খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিল উত্তোলনের আগে ১৬ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়। কমিশন না দিলে বিল পেতে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একাধিক প্রকল্পে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অধিকাংশ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম করে আসছেন। বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কমিশন আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মংক্যথোয়াই মারমা একটি প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য খাদ্যশস্য ও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, আংশিক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিলটন দস্তিদার বলেন, “আমাদের দপ্তরের সব প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।”
এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজমিন আলম তুলি বলেন, “কোনো প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com