সিরাজুল ইসলাম : জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার//
রোহিঙ্গা সংকট বিশ্ব রাজনীতির আলোচনায় থাকলেও কার্যকর সমাধান এখনও অধরাই। চলতি মাসের শেষে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে বসছে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন, আর ডিসেম্বরে কাতারে আরেকটি বৈঠক। এসব উদ্যোগকে বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখলেও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন—এবার কি সত্যিই প্রত্যাবাসনের পথ খুলবে, নাকি আগের মতো কূটনৈতিক প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধই থেকে যাবে?
গত রোজায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে পাশে রেখে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন—আগামী ঈদে রোহিঙ্গারা নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরতে পারবেন। কিন্তু ছয় মাস বাকি থাকলেও পরিস্থিতি বলছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এখনো অনুকূলে নয়।
কক্সবাজারে আয়োজিত অংশীজন সংলাপে ড. ইউনূস নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সাত দফা প্রস্তাব দেন। নতুনত্ব তেমন না থাকলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনায় ফেরাতে এটি কার্যকর হতে পারে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবিরের মতে— “২০১৭-১৮ সালে ছিল পাঁচ দফা, এখন সাত দফা। আসল প্রশ্ন হলো ভূ-রাজনীতির জট খোলা যাবে কি না। সেখানেই সমাধান আটকে আছে।”
অভিবাস ও শরণার্থী বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন— “এটাকে নতুন রোডম্যাপ বলা যাবে না, বরং পুরোনো প্রস্তাবের রিইনফোর্সমেন্ট। তবে আন্তর্জাতিক মহলে আবারও ইস্যুটি আলোচনায় আনার চেষ্টা ইতিবাচক।
জাতিসংঘের উদ্যোগে ৩০ সেপ্টেম্বরের সম্মেলনে তিনটি মূল বিষয় আলোচনায় আসবে— ১. আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড় ২. নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি ৩. সামগ্রিক সংকটের মূল্যায়ন
ডিসেম্বরে কাতারের বৈঠকও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এর বাইরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আইনপ্রণেতাদের সংগঠন এপিএইচআর প্রস্তাব দিয়েছে—বাংলাদেশ, চীন ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সমন্বয়ে আলাদা সম্মেলন করার
সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বৈশ্বিক কূটনীতির নতুন এক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—এসব সম্মেলন কি বাস্তব সমাধানের সোপান তৈরি করবে, নাকি আগের মতো আশার কথা শোনালেও মাঠপর্যায়ে কোনো অগ্রগতি হবে না? আর সেই উত্তরই ঠিক করবে, রোহিঙ্গারা আগামী ঈদে নিজেদের ঘরে ফিরতে পারবেন কিনা।


