এম কে হাসান .জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় এটি বাংলাদেশের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান অনাগ্রহে স্থানীয় জনজীবন চরম সংকটাপন্ন। বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে আয়োজিত এক নাগরিক সম্মেলনে বক্তারা অবিলম্বে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ও জোরালো উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার বিকেলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ফাউন্ডেশন ও সিনিএনএফ-এর যৌথ আয়োজনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি, উখিয়া-টেকনাফের জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রত্যাবাসনই একমাত্র পথ:- সম্মেলনে বক্তারা বলেন, উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড় ও বনভূমি উজাড় হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ ও সামাজিক ভারসাম্য ধ্বংসের পথে। স্থানীয়রা বর্তমানে মাদক পাচার, অপহরণ, ডাকাতি ও চোরাচালানসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বক্তারা স্পষ্টভাবে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের একমাত্র পথ হচ্ছে মিয়ানমারে তাদের সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন। এর বাইরে আর কোনো কার্যকর সমাধান নেই।
অর্থায়নে টান, স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ:- বৈঠকে দাতা সংস্থাগুলোর অনুদান কমিয়ে দেওয়াকে একটি ‘অশনি সংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বক্তারা জানান, সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ায় ক্যাম্পে খাদ্য সংকট তীব্র হচ্ছে, যার ফলে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
এ ছাড়া, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনায় চরম বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও এই বৈষম্যমূলক আচরণ তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা-স্থানীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে।
এনজিও গুলোর অভিযোগ:- স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, ইউএনএইচসিআর সহ আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলো বরাদ্দের ৯২ শতাংশ নিজেদের অধীনে রেখে দেশীয় সংস্থাগুলোকে বঞ্চিত করছে। কক্সবাজারের স্থানীয় সংস্থাগুলোর প্রতি চরম বৈষম্য করা হচ্ছে দাবি করে তারা বলেন, সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় অংশীদারদের সমান অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
২০ লাখের বোঝা:- সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত নতুন জন্মদান ও নতুন অনুপ্রবেশের ঘটনায় এটি দেশের জন্য অসহনীয় বোঝা হয়ে উঠছে। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আর কোনো গাফিলতি বা শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই। অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত ও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল এই সংকট থেকে মুক্তি সম্ভব।
সম্মেলনে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমানের বিশেষ উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com