মোঃ নুরুজ্জামান শাজাহানপুর উপজেলা প্রতিনিধি//
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সরকারের ঈদ উপহার হিসেবে হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণের প্রস্তুতি চলছিল। এ লক্ষ্যে পরিষদের সদস্যদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। বৈঠক চলাকালে ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী কার্যালয়ে প্রবেশ করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে ইউপি সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লাঠিসোঁটা দিয়ে পরিষদের বারান্দায় ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় কয়েকজন সদস্যকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হতদরিদ্রদের জন্য সরকারিভাবে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শাজাহানপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মোট ৬ হাজার ৫৪৬ জন উপকারভোগীর মধ্যে এ চাল বিতরণ করা হবে। চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করে কার্ডের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে চাল বিতরণের কথা রয়েছে।
খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার ইউনিয়নে ৬৩৫ জনের নামে চাল বরাদ্দ এসেছে। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে পরিষদের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ সময় খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল বাশারের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা এসে বরাদ্দকৃত কার্ডের অর্ধেক তাদের দিতে হবে বলে দাবি করেন। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
লাঞ্ছিত ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ বলেন, “গরিব মানুষের ঈদ উপহারের ভাগ কেন দিতে হবে? আমরা সঠিকভাবে তালিকা করে বিতরণ করতে চেয়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল বাশার বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আমন্ত্রণেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রত্যেক ওয়ার্ডের মেম্বাররা যেন নিজ নিজ ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করেন—এমন পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। অর্ধেক কার্ড দাবি বা ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


