হোসেনপুর উপজেলা সংবাদদাতা
নতুন সংসার, নতুন স্বপ্ন—কিন্তু সেই স্বপ্নের শুরুতেই নেমে এলো অন্ধকার। শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে রহস্যজনকভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল এক তরুণের মরদেহ। ঘটনাটি ঘিরে কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আমিন (১৯) বিজয়নগর থানা এলাকার বাসিন্দা। মাত্র তিন মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের পর ফাতেমা আক্তারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দাম্পত্য জীবন শুরু হয়েছিল স্বাভাবিকভাবেই। রবিবার (১ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে আমিন শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হন। পরে দুপুরে নান্দাইল উপজেলা-র জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের সুরাটি বাজার এলাকায় একটি রবি মোবাইল টাওয়ারের পাশে পরিত্যক্ত স্থান থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের গলায় প্যান্টের বেল্ট পেঁচানো ছিল। পাশে থাকা একটি ব্যাগে পাওয়া যায় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন। দিবালোকে, জনবসতির কাছাকাছি এমন ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি রহস্যজনক। তাদের মতে, এটি আত্মহত্যা নাও হতে পারে; কাউকে হত্যা করে পরে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। হোসেনপুর থানা-র ওসি (তদন্ত) লিমন বোস জানান, যেহেতু মরদেহ নান্দাইল থানার এলাকায় উদ্ধার হয়েছে, তাই আইনগত প্রক্রিয়া সেখান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রয়োজনে সহযোগিতা করা হবে। অন্যদিকে নান্দাইল থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আল আমিন বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট প্রকাশের পরই মিলবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ। রহস্যে ঘেরা এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের একটাই দাবি—নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।


